ফাতাহ-২ ক্ষেপণাস্ত্র
banner

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | তেহরান-লন্ডন ০৪ মার্চ, ২০২৬

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিশোধের হুমকির মধ্যেই দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে বিখ্যাত সামরিক ম্যাগাজিন ‘মিলিটারি ওয়াচ’। পার্সটুডে-র বরাতে জানা গেছে, ম্যাগাজিনটি এক বিশেষ প্রতিবেদনে দাবি করেছে, ইরানের তৈরি হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘ফাতাহ-২’ বর্তমানে পশ্চিমা ও ইসরাইলি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলোর জন্য এক মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ফাতাহ-২: কেন এটি অজেয়?

মিলিটারি ওয়াচ তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, অত্যন্ত উচ্চ গতি এবং সুচারু কৌশলী (Maneuverability) বৈশিষ্ট্যের কারণে ফাতাহ-২ ক্ষেপণাস্ত্রকে মাঝ আকাশে শনাক্ত বা ধ্বংস করা প্রায় অসম্ভব। প্রতিবেদনের মূল পয়েন্টগুলো হলো:

  • উন্নত প্রযুক্তি: ফাতাহ-২ ক্ষেপণাস্ত্রে ব্যবহৃত প্রযুক্তি বিশ্বের হাতেগোনা কয়েকটি দেশের কাছে রয়েছে। ইরান সেই তালিকায় নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে।
  • প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ফাটল: ইসরাইলের বহুল আলোচিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো এই হাইপারসনিক গতির সামনে অকার্যকর প্রমাণিত হচ্ছে।
  • সামরিক হিসাব-নিকাশে বদল: দখলদার ইসরাইলের বিভিন্ন কৌশলগত অবস্থানে এই ক্ষেপণাস্ত্রের নিখুঁত আঘাতের ছবি প্রকাশ করে বলা হয়েছে, এটি এখন গোটা অঞ্চলের সামরিক ভারসাম্য বদলে দেওয়ার মূল ফ্যাক্টর।

পশ্চিমাদের উদ্বেগ

মিলিটারি ওয়াচ আরও লিখেছে, বিশ্বের যেসব দেশের হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতা রয়েছে, ইরান তাদের মধ্যে অন্যতম। ইরানের এই অর্জন কেবল ইসরাইল নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন ও পশ্চিমা সামরিক সরঞ্জামকেও চরম ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে।

জেনারেল স্টাফের হুঁশিয়ারির প্রতিফলন

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ যখন ঘোষণা করেছেন যে তারা “ইতিহাসের সবচেয়ে সহিংস আক্রমণ” চালাবেন, তখন ফাতাহ-২-এর মতো বিধ্বংসী অস্ত্রের উপস্থিতি সেই হুমকিকে আরও বাস্তবসম্মত করে তুলছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যদি পূর্ণমাত্রায় এই হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার শুরু করে, তবে মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বদলে যেতে পারে।

সূত্র: পার্স টুডে