ভিসা ফ্রি দেশ
banner

সর্বশেষ হালনাগাদ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬। তথ্যের ভিত্তি: হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্সের জুলাই ২০২৬ সংস্করণ ও সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি নীতি।

বিদেশ ভ্রমণের পরিকল্পনা শুরু হলেই প্রথম প্রশ্ন ওঠে, ভিসা লাগবে কি না। বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের জন্য ভিসা ফ্রি দেশ ও অন-অ্যারাইভাল ভিসার তালিকা তুলনামূলক ছোট হলেও সুযোগটা সত্যিকারের। তাই জেনে-বুঝে পরিকল্পনা করলে খরচ ও ঝামেলা দুটোই কমে।

হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্সের জুলাই ২০২৬ সংস্করণে বাংলাদেশের পাসপোর্টের অবস্থান ৯৭তম। উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে এই অবস্থানে থাকা বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা আগাম ভিসা ছাড়া ৩৫টি গন্তব্যে যেতে পারেন।

তবে বছরের শুরুতে এই সংখ্যা ছিল ৩৭, কারণ দুটি দেশ অন-অ্যারাইভাল সুবিধা তুলে নিয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্ট সিঙ্গাপুরের, যার ধারকেরা ১৯২টি গন্তব্যে আগাম ভিসা ছাড়া প্রবেশ করতে পারেন।

এই লেখায় আপনি পাবেন:

  • অঞ্চলভিত্তিক ভিসা ফ্রি দেশ ও সহজ প্রবেশের গন্তব্যের তালিকা
  • অন-অ্যারাইভাল ভিসা, ইটিএ ও ই-ভিসার নিয়ম
  • ইমিগ্রেশনে লাগতে পারে এমন কাগজপত্রের চেকলিস্ট
  • ডলার এনডোর্সমেন্টের সর্বশেষ সীমা
  • চারটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি টিপস

ভিসা ফ্রি, ভিওএ, ইটিএ ও ই-ভিসা: পার্থক্য কী

অনেকেই “ভিসা ফ্রি” বলতে সব ধরনের সহজ প্রবেশকে বোঝেন। অথচ চারটি ধরনের নিয়ম আলাদা। ভ্রমণের আগে এই পার্থক্য জানা জরুরি।

  • ভিসা ফ্রি: আগে বা বিমানবন্দরে ভিসার আবেদন করতে হয় না। শুধু নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে থাকা যায়।
  • অন-অ্যারাইভাল ভিসা (ভিওএ): গন্তব্যে পৌঁছে ইমিগ্রেশন কাউন্টার থেকে ভিসা নিতে হয়। কোথাও ফি লাগে, কোথাও লাগে না।
  • ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন (ইটিএ): যাত্রার আগে অনলাইনে অনুমোদন নিতে হয়। এটি ঐতিহ্যবাহী ভিসা নয়, তবে বিমানে ওঠার আগে বাধ্যতামূলক।
  • ই-ভিসা: অনলাইনে আবেদন করে আগাম অনুমোদন নিতে হয়। হেনলি সূচকের গণনায় ই-ভিসা ধরা হয় না, তাই ৩৫টি গন্তব্যের তালিকার বাইরে এর দেশগুলো আলাদা।

বাংলাদেশি পাসপোর্টে ভিসা ফ্রি দেশের তালিকা (অঞ্চল অনুযায়ী)

নিচের তালিকা হেনলি সূচকের জুলাই ২০২৬ সংস্করণের ৩৫টি গন্তব্যের ওপর ভিত্তি করে সাজানো। থাকার মেয়াদ ও শর্তের তথ্য আইএটিএ ও সরকারি সূত্রে প্রকাশিত নথি থেকে নেওয়া। যেখানে নির্দিষ্ট মেয়াদ নিশ্চিত করা যায়নি, সেখানে “দূতাবাসে যাচাই করুন” লেখা আছে।

ভিসা ফ্রি দেশ
সিসিলি। ছবি: Pexels

এশিয়া

এশিয়ায় সম্পূর্ণ ভিসা ফ্রি গন্তব্য নেই। তবে নিচের ছয়টি দেশে আগাম দূতাবাস ভিসা ছাড়াই যাওয়া যায়।

দেশপ্রবেশের ধরনথাকার মেয়াদ ও মন্তব্য
ভুটানভিওএ/পারমিটবাংলাদেশি পর্যটকদের ভিসা ফি মওকুফ। সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট ফি প্রতি রাতে ১৫ ডলার (বছরে প্রথম ১৫ হাজার জনের জন্য)। গাইড ও হোটেল বুকিং লাগে
মালদ্বীপফ্রি ভিওএ৩০ দিন
নেপালভিওএ১৫, ৩০ বা ৯০ দিন, ফি অনুযায়ী
কম্বোডিয়াভিওএ (ই-ভিসাও আছে)দূতাবাসে যাচাই করুন
তিমুর-লেস্তেভিওএ৩০ দিন
শ্রীলঙ্কাইটিএ৩০ দিন, আগাম অনলাইন অনুমোদন লাগে

আফ্রিকা

দেশপ্রবেশের ধরনথাকার মেয়াদ ও মন্তব্য
রুয়ান্ডাভিসা ফ্রি৩০ দিন
গাম্বিয়াভিসা ফ্রি৯০ দিন
কেনিয়াইটিএ৯০ দিন
সিসিলিইটিএ (ইলেকট্রনিক বর্ডার সিস্টেম)৩ মাস
বুরুন্ডিভিওএ১ মাস
কমোরোসভিওএ৪৫ দিন
জিবুতিভিওএ (কিছু সূত্রে ই-ভিসা)দূতাবাসে যাচাই করুন
গিনি-বিসাউভিওএ৯০ দিন
মাদাগাস্কারভিওএ৯০ দিন
সিয়েরা লিওনভিওএ (ই-ভিসাও আছে)দূতাবাসে যাচাই করুন

ক্যারিবীয় ও উত্তর আমেরিকা

এই অঞ্চলেই ভিসা ফ্রি দেশের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

দেশপ্রবেশের ধরনথাকার মেয়াদ
বাহামাভিসা ফ্রি৪ সপ্তাহ
বার্বাডোসভিসা ফ্রি৬ মাস
ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডসভিসা ফ্রিদূতাবাসে যাচাই করুন
ডোমিনিকাভিসা ফ্রি৬ মাস
গ্রেনাডাভিসা ফ্রি৩ মাস
হাইতিভিসা ফ্রি৩ মাস
জামাইকাভিসা ফ্রি৬ মাস
মন্টসেরাটভিসা ফ্রিদূতাবাসে যাচাই করুন
সেন্ট কিটস ও নেভিসইটিএ৩ মাস
সেন্ট ভিনসেন্ট ও গ্রেনাডাইনসভিসা ফ্রি৩ মাস
ত্রিনিদাদ ও টোবাগোভিসা ফ্রিদূতাবাসে যাচাই করুন

ওশেনিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ

দেশপ্রবেশের ধরনথাকার মেয়াদ
কুক আইল্যান্ডসভিসা ফ্রিদূতাবাসে যাচাই করুন
ফিজিভিসা ফ্রি৪ মাস
কিরিবাতিভিসা ফ্রি৯০ দিন (১২ মাসে মোট ৯০ দিনের বেশি নয়)
মাইক্রোনেশিয়াভিসা ফ্রি৩০ দিন
ভানুয়াতুভিসা ফ্রি৩০ দিন
নিউয়েভিওএদূতাবাসে যাচাই করুন
সামোয়াভিওএ/ভিজিটর পারমিট৬০ দিন
টুভালুভিওএ১ মাস

একটি সতর্কতা: কেপ ভার্দে আগে এই তালিকায় ছিল। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে দেশটি বাংলাদেশসহ ৯৬টি দেশের জন্য অন-অ্যারাইভাল সুবিধা স্থগিত করেছে, আর জুলাই ২০২৬ এর হেনলি তালিকাতেও দেশটির নাম নেই। অর্থাৎ পুরোনো তালিকা দেখে পরিকল্পনা করলে বিপদে পড়তে পারেন।

বাস্তব পরামর্শ: তালিকার বেশির ভাগ দেশ দূরের দ্বীপরাষ্ট্র। সরাসরি ফ্লাইটের সুবিধা ও খরচের বিচারে বাংলাদেশিদের কাছে মালদ্বীপ, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা ও কম্বোডিয়া সবচেয়ে বাস্তবসম্মত। আফ্রিকায় কেনিয়া ও সিসিলিও জনপ্রিয়।

অন-অ্যারাইভাল ভিসা, ইটিএ ও ই-ভিসা: দেশভিত্তিক নিয়মাবলী

জনপ্রিয় অন-অ্যারাইভাল গন্তব্যের নিয়ম

মালদ্বীপ: ভিসা বিমানবন্দরে বিনা ফিতে দেওয়া হয়। তবে আগে অনলাইনে ইমুগা (IMUGA) পোর্টালে ট্রাভেলার ডিক্লারেশন জমা দিতে হয়। এটি যাত্রার ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে করতে হয় এবং বিনা মূল্যে। কোনো ওয়েবসাইট বা এজেন্ট এর জন্য ফি চাইলে সেটি তৃতীয় পক্ষের চার্জ, ইমিগ্রেশনের নয়। কাউন্টারে লাগবে পাসপোর্ট, নিশ্চিত রিটার্ন টিকিট, নিবন্ধিত হোটেল বা গেস্টহাউসে অগ্রিম পরিশোধিত বুকিং এবং পর্যাপ্ত অর্থের প্রমাণ।

নেপাল: বাংলাদেশি নাগরিকেরা ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও নির্ধারিত অন্য প্রবেশপথে ভিওএ নিতে পারেন। ফি ১৫ দিনের জন্য ৩০ ডলার, ৩০ দিনের জন্য ৫০ ডলার এবং ৯০ দিনের জন্য ১২৫ ডলার। সঙ্গে রাখুন পাসপোর্ট সাইজ ছবি ও ফির নগদ ডলার।

ভুটান: ভিসা ফি মওকুফ। সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট ফি প্রতি জনের জন্য প্রতি রাতে ১৫ ডলার, তবে এই হার বছরে প্রথম ১৫ হাজার বাংলাদেশি পর্যটকের জন্য। ২০২৪ সালের ঘোষণা অনুযায়ী কোটা পেরিয়ে গেলে প্রতি রাতে ১০০ ডলার লাগতে পারে। হোটেল বুকিং ও গাইডের নিয়ম আগের মতোই বহাল, তাই ভ্রমণের আগে বর্তমান হার যাচাই করুন।

ইটিএ ভিত্তিক গন্তব্য

শ্রীলঙ্কা: ২০২৬ সালের মে মাসে দেশটি ৪০টি দেশের নাগরিকের জন্য ইটিএ ফি মওকুফ করেছে। বাংলাদেশ সেই তালিকায় নেই (বিডিনিউজ২৪, জুন ২০২৬)। তাই বাংলাদেশিদের ফি দিতেই হবে। সূত্রভেদে ফির পরিমাণ ভিন্ন দেখা যায়, তাই eta.gov.lk থেকে বর্তমান ফি দেখে নিন।

কেনিয়া: ইটিএ ফি ৩২.৫০ ডলার। যাত্রার অন্তত তিন দিন আগে আবেদন করতে হবে। হোটেল বুকিংয়ের প্রমাণ লাগে, বন্ধু বা আত্মীয়ের বাসায় উঠলে আমন্ত্রণপত্র চলে। হলুদ জ্বরের ঝুঁকিপূর্ণ দেশ থেকে এলে টিকা সনদ লাগে।

সিসিলি: ইলেকট্রনিক বর্ডার সিস্টেমে যাত্রার ৩০ দিন আগে থেকে আবেদন করা যায়। ফি ১০ ইউরো, কার্ডে পরিশোধ। প্রতিটি থাকার জায়গার বুকিং আপলোড করতে হয়।

ই-ভিসা সুবিধার দেশ

হেনলি সূচকে ধরা না হলেও নিচের দেশগুলোতে অনলাইনে ই-ভিসা পাওয়া যায়। এর মধ্যে থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে ভিওএ নেই। ই-ভিসা ছাড়া গেলে বিমানবন্দর থেকেই ফেরত পাঠানো হতে পারে।

দেশমেয়াদ ও শর্ত
থাইল্যান্ড২০২৫ সালের ২ জানুয়ারি থেকে সাধারণ পাসপোর্টধারীদের জন্য ই-ভিসা চালু। অন্তত দুই সপ্তাহ আগে আবেদন করুন
মালয়েশিয়াএকক প্রবেশের ই-ভিসা, ৩০ দিন
সিঙ্গাপুরস্থানীয় যোগাযোগকারী, অংশীদার প্রতিষ্ঠান বা অনুমোদিত ভিসা এজেন্টের মাধ্যমে আবেদন
ভিয়েতনামই-ভিসা। ৩০ বা ৯০ দিনের তথ্য পাওয়া যায়, পোর্টালে নিশ্চিত হোন
ইন্দোনেশিয়াএকক প্রবেশ, ৬০ দিন
কাতারহায়া (Hayya) ওয়েবসাইটে আবেদন, ৩০ দিন
পাকিস্তান৯০ দিন। ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে বিনা ফিতে দেওয়ার তথ্য আছে
ফিলিপাইনশুধু পর্যটনের জন্য ই-ভিসা। ই-ভিসা পাওয়ার পর যাত্রার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ই-ট্রাভেল রেজিস্ট্রেশন ফর্ম পূরণ করতে হয়
কিরগিজস্তান৬০ দিন
তাজিকিস্তান৬০ দিন
ইথিওপিয়া৯০ দিন, আদ্দিস আবাবা বোলে বিমানবন্দর দিয়ে প্রবেশ
উগান্ডা৩ মাস
জাম্বিয়া৩ মাস
জিম্বাবুয়ে৯০ দিন

শর্তসাপেক্ষ ই-ভিসা: তুরস্ক, আলবেনিয়া ও জর্জিয়া সবার জন্য ই-ভিসা দেয় না। শেনজেন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য বা ওইসিডিভুক্ত কোনো দেশের বৈধ ভিসা থাকলেই কেবল এই সুবিধা মেলে।

ইউরোপ-আমেরিকা: শেনজেন এলাকায় বাংলাদেশি পাসপোর্টে ভিসা ছাড়া প্রবেশ নেই। যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা আবেদনে এখন রিফান্ডযোগ্য ভিসা বন্ডের নিয়ম আছে, যা ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার হতে পারে।

ই-ভিসায় আবেদনের সাধারণ ধাপ

  1. গন্তব্য দেশের সরকারি ই-ভিসা পোর্টালে যান। ডোমেইনের শেষে সরকারি পরিচয় (যেমন .gov) আছে কি না দেখুন।
  2. পাসপোর্টের স্ক্যান কপি, সাম্প্রতিক ছবি, হোটেল বুকিং ও রিটার্ন টিকিটের কপি তৈরি রাখুন।
  3. ফরম পূরণ করে ফি পরিশোধ করুন।
  4. অনুমোদনের পিডিএফ প্রিন্ট করে পাসপোর্টের সঙ্গে রাখুন। মোবাইলে ডাউনলোড করেও রাখুন।
  5. পোর্টালের নির্দেশনা না থাকলে কোনো এজেন্টকে বাড়তি টাকা দেবেন না।

ইমিগ্রেশনে ভিসা অন-অ্যারাইভালের জন্য যেসব কাগজপত্র লাগে

অন-অ্যারাইভাল ভিসা পেলেও ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা আপনার প্রবেশ নিশ্চিত করেন না। মালদ্বীপ মিশনের ওয়েবসাইটেও স্পষ্ট লেখা আছে, সম্পূর্ণ ভ্রমণসূচি ও বুকিং থাকলেও প্রবেশের নিশ্চয়তা নেই। তাই নিচের কাগজপত্র গুছিয়ে রাখুন।

  1. পাসপোর্ট: মালদ্বীপের মতো কিছু দেশে মেয়াদ কমপক্ষে এক মাস লাগে, অনেক দেশে ছয় মাস। এয়ারলাইনও ছয় মাস চাইতে পারে, তাই ছয় মাস মেয়াদ রাখাই নিরাপদ। ফাঁকা পাতা রাখুন।
  2. নিশ্চিত রিটার্ন বা অনওয়ার্ড টিকিট: শুধু বুকিং রেফারেন্স নয়, নিশ্চিত টিকিট দেখাতে হয়।
  3. হোটেল বুকিং: মালদ্বীপে নিবন্ধিত রিসোর্ট, হোটেল বা গেস্টহাউসে অগ্রিম পরিশোধিত বুকিং চাওয়া হয়। কেনিয়া ও সিসিলির মতো দেশে ইটিএ আবেদনেও বুকিং আপলোড করতে হয়।
  4. পর্যাপ্ত অর্থের প্রমাণ: বাংলাদেশে মালদ্বীপ মিশনের তথ্যে বলা আছে, প্রয়োজনীয় অর্থ ১০০ ডলার সঙ্গে প্রতিদিন ৫০ ডলার, অথবা রিসোর্ট বা হোটেলের বুকিং নিশ্চিতকরণ। ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা কার্ডের ব্যালান্সও সঙ্গে রাখুন।
  5. ডলার এনডোর্সমেন্ট: পাসপোর্টে নগদ বৈদেশিক মুদ্রা বহনের এনডোর্সমেন্ট রাখুন। বিস্তারিত নিচে।
  6. ভিওএ ফি নগদ ডলারে ও পাসপোর্ট সাইজ ছবি: নেপালের মতো দেশে ফি নগদ ডলারে দিতে হয়। ছবি প্রয়োজনীয় সংখ্যায় রাখুন।
  7. ডিক্লারেশন ও আগাম অনুমোদন: মালদ্বীপের ইমুগা কিউআর, শ্রীলঙ্কা বা কেনিয়ার ইটিএ অনুমোদনপত্র প্রিন্ট করে রাখুন।
  8. হলুদ জ্বর টিকার সনদ: ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হয়ে গেলে বা ঝুঁকিপূর্ণ দেশ থেকে এলে কেনিয়া ও সিসিলি সনদ চাইতে পারে।
  9. ভ্রমণ বিমা ও যোগাযোগের তথ্য: কিছু দেশে বাধ্যতামূলক, অন্যত্র জিজ্ঞাসা করা হতে পারে। সঙ্গে স্থানীয় হোস্টের ঠিকানা ও ফোন নম্বর রাখুন।
  10. সম্ভাব্য সহায়ক নথি: চাকরির প্রত্যয়নপত্র বা ছুটির অনুমোদন, ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্স, ভ্রমণসূচি। এগুলো সব দেশে বাধ্যতামূলক নয়, তবে ভ্রমণের উদ্দেশ্য বোঝাতে সাহায্য করে।

ডলার এনডোর্সমেন্ট ও মুদ্রা বহনের সর্বশেষ নিয়ম

বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সার্কুলার জারি করে বিদেশ ভ্রমণের বার্ষিক বৈদেশিক মুদ্রার সীমা ১২ হাজার ডলার থেকে বাড়িয়ে ১৮ হাজার ডলার করেছে। এটি বাংলাদেশে বসবাসরত প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য।

  • কোটার মধ্যে নগদ ডলার নোট সর্বোচ্চ ৫ হাজার ডলার।
  • অনুমোদিত মানি চেঞ্জার প্রতিবারে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ডলার নগদ বিক্রি করতে পারে (অক্টোবর ২০২৬ এর সিদ্ধান্ত)।
  • মানি চেঞ্জার পাসপোর্টে এনডোর্সমেন্টের জন্য সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা ফি নিতে পারে।
  • বিদেশে যাওয়ার সময় সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা বাংলাদেশি মুদ্রা সঙ্গে নেওয়া যায়।

ভ্রমণকারীদের জন্য ৪টি গুরুত্বপূর্ণ আইনি টিপস

১. ভিসা ফ্রি মানে প্রবেশের নিশ্চয়তা নয়

ভিসা নীতি যেকোনো সময় বদলায়। কেপ ভার্দের উদাহরণ তো আগেই দেখলেন। তাই টিকিট কাটার আগে গন্তব্য দেশের সরকারি ইমিগ্রেশন ওয়েবসাইট বা বাংলাদেশে অবস্থিত দূতাবাস থেকে নিশ্চিত হোন।

ভ্রমণ ব্লগ বা পুরোনো তালিকার ওপর ভরসা করবেন না। প্রবেশের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ইমিগ্রেশন কর্মকর্তার।

২. জাল বা ভুয়া কাগজপত্র কোনোভাবেই নয়

ভুয়া ভিসা, বানানো হোটেল বুকিং, ভুয়া ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা মিথ্যা ভ্রমণসূচি দেওয়া ফৌজদারি অপরাধ। ধরা পড়লে বিমানবন্দরেই যাত্রা আটকে যেতে পারে, দেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে, ভবিষ্যতে ওই দেশে প্রবেশ নিষিদ্ধ হতে পারে।

২০২৬ সালের ৪ জুলাই ঢাকা বিমানবন্দরে মালয়েশিয়াগামী বিমানের ১৫ জন যাত্রীকে সন্দেহজনক ভিসা নথির কারণে আটকানো হয়। এরপর যাচাই কড়াকড়ি হলে ৬১ জন যাত্রী বোর্ডিং পাস নিয়েও বিমানে না উঠে বিমানবন্দর ছেড়ে চলে যান।

কোনো দালাল বা এজেন্ট নথি জোগাড় করে দেওয়ার প্রস্তাব দিলে সেটি ফিরিয়ে দিন।

৩. মুদ্রা ও ডলার আইন মেনে চলুন

দেশের বৈদেশিক মুদ্রা সংক্রান্ত আইন ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বিদেশ ভ্রমণে মুদ্রা বহনের সীমা আছে। বার্ষিক কোটা, নগদ ডলারের সর্বোচ্চ সীমা এবং বাংলাদেশি টাকার সীমা মেনে চলুন।

গন্তব্য দেশেও নির্দিষ্ট অঙ্কের বেশি নগদ অর্থ ঘোষণা করতে হয়। ঘোষণা না করলে অর্থ জব্দ বা জরিমানা হতে পারে। আপনার ব্যাংক বা অনুমোদিত মানি চেঞ্জার থেকে বর্তমান সীমা নিশ্চিত করে নিন।

৪. পর্যটক হিসেবে কাজ নয়, মেয়াদও পেরোবেন না

ভিসা ফ্রি বা ভিওএ সুবিধা শুধু পর্যটন ও স্বল্প সময়ের ভ্রমণের জন্য। মালদ্বীপ দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী এই ধরনের ভিসায় চাকরি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

মেয়াদ পেরোলে জরিমানা, বহিষ্কার ও ভবিষ্যৎ ভিসায় বাধা আসে। এছাড়া বাংলাদেশি পাসপোর্টে লেখা আছে, এটি ইসরায়েল ছাড়া সব দেশের জন্য বৈধ। তাই ইসরায়েল ভ্রমণ বাংলাদেশি পাসপোর্টে অনুমোদিত নয়।

প্রায়ই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

বাংলাদেশি পাসপোর্টে কতটি দেশে ভিসা ছাড়া যাওয়া যায়?

হেনলি সূচকের জুলাই ২০২৬ সংস্করণ অনুযায়ী ৩৫টি গন্তব্যে। এর মধ্যে ভিসা ফ্রি, অন-অ্যারাইভাল ও ইটিএ তিনটিই ধরা হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী পুরোপুরি ভিসা ফ্রি দেশ ১৭টি।

মালদ্বীপে যেতে কি ভিসা ফি লাগে?

না। বিমানবন্দরে ৩০ দিনের ভিসা বিনা ফিতে দেওয়া হয়। ইমুগা ট্রাভেলার ডিক্লারেশনও বিনা মূল্যে। তবে নিশ্চিত রিটার্ন টিকিট, অগ্রিম পরিশোধিত বুকিং ও পর্যাপ্ত অর্থের প্রমাণ লাগে।

থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া বা সিঙ্গাপুরে কি ভিসা ছাড়া যাওয়া যায়?

না। তিন দেশেই আগাম ই-ভিসা বা অনুমোদিত ভিসা লাগে। বাংলাদেশিদের জন্য সেখানে ভিওএ নেই।

ভিসা ফ্রি দেশে গেলেই কি ইমিগ্রেশনে ঢোকা নিশ্চিত?

ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা আপনার কাগজপত্র ও ভ্রমণের উদ্দেশ্য যাচাই করে প্রবেশ দেন বা ফিরিয়ে দেন। তাই সব নথি প্রিন্টসহ সঙ্গে রাখুন।

শেনজেন, যুক্তরাষ্ট্র বা যুক্তরাজ্যে কি ভিসা ফ্রি সুবিধা আছে?

না। এসব গন্তব্যে আগাম ভিসা আবেদন বাধ্যতামূলক।

শেষ কথা

বাংলাদেশি পাসপোর্টে ভিসা ফ্রি দেশের সংখ্যা সীমিত। তবু মালদ্বীপ, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা কিংবা কেনিয়ার মতো গন্তব্যে সহজে যাওয়ার সুযোগ আছে।

সঙ্গে থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ভিয়েতনামের মতো জনপ্রিয় দেশে ই-ভিসায় ঘরে বসেই আবেদন করা যায়।

সবচেয়ে বড় বিষয় হলো হালনাগাদ তথ্য। ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি পোর্টাল বা দূতাবাস থেকে নিয়ম যাচাই করুন, কাগজপত্র গুছিয়ে রাখুন এবং আইন মেনে চলুন।

তাহলে ভিসা ফ্রি দেশ ও অন-অ্যারাইভাল ভিসার সুবিধা নিরাপদে কাজে লাগাতে পারবেন।

তথ্যসূত্র