সিটি করপোরেশন এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশা বা ই-রিকশার ব্যাটারি চার্জিং কার্যক্রম সুনির্দিষ্ট কাঠামোর আওতায় আনতে নতুন বিধান তৈরি করেছে সরকার।
নতুন এই নির্দেশনা অনুযায়ী, সরকারের অনুমোদিত এবং সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের বৈধ লাইসেন্সপ্রাপ্ত চার্জিং পয়েন্ট বা নির্ধারিত গ্যারেজে ছাড়া অন্য কোথাও ই-রিকশার ব্যাটারি চার্জ দেওয়া যাবে না।
অবৈধভাবে কিংবা চোরাই বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ব্যাটারি চার্জ দিলে বিদ্যমান বিদ্যুৎ ও দণ্ডবিধি আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জারি করা ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’-এ এসব যুগান্তকারী নিয়ম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
অনুমোদিত চার্জিং স্টেশন ও সৌরবিদ্যুতের বাধ্যতামূলক ব্যবহার
নতুন ঘোষিত বিধিমালা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ ট্রাফিক বিভাগ, স্থানীয় বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত অনুমোদিত চার্জিং স্টেশন, নির্দিষ্ট গ্যারেজ ও ব্যাটারি বিনিময় কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেবে।
এসব পরিকাঠামো সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) কিংবা পুরোপুরি বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে গড়ে তোলা যাবে। তবে চার্জিং স্টেশন ডেকোরেশন ও স্থাপনের জন্য অবশ্যই প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন নিতে হবে।
বিদ্যুতের চাপ কমাতে ও জাতীয় গ্রিডের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে চার্জিং অবকাঠামোয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষত সৌরবিদ্যুতের (সোলার প্যানেল) ব্যবহার বাড়ানোর ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
সোলার প্যানেলের সঙ্গে ‘নেট মিটারিং’ ব্যবস্থার সংযোগ থাকবে, যাতে দিনের বেলায় উৎপাদিত সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে রাতের বেলা প্রয়োজন অনুযায়ী গ্রিডের বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ব্যাটারি রিচার্জ করা সম্ভব হয়।
পর্যায়ক্রমে প্রতিটি নিবন্ধিত ই-রিকশার চার্জিং স্টেশন ও গ্যারেজের তথ্য যানবাহনের ব্লু-বুকেও অন্তর্ভুক্ত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
পুরোনো ব্যাটারি যত্রতত্র ফেলা ও ভাঙায় নিষেধাজ্ঞা
নতুন নীতিমালায় ব্যাটারি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে পরিবেশ সুরক্ষাকে বিশেষভাবে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে কোনো পুরোনো বা অকার্যকর ব্যাটারি খোলা মাঠে, মাটিতে, লোকালয়ে, কোনো জলাশয়ে কিংবা সাধারণ বর্জ্যের সঙ্গে ফেলা বা পোড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ব্যাটারি বিক্রেতাদের ওপর বাধ্যবাধকতা আরোপ করে বলা হয়েছে- নতুন ব্যাটারি বিক্রির সময় ক্রেতার কাছ থেকে পুরোনো বা ব্যবহৃত ব্যাটারিটি ফেরত সংগ্রহ করে সরকারের অনুমোদিত পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ (রিসাইক্লিং) কারখানায় পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
এছাড়া পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া খোলা জায়গায় ব্যাটারি ভাঙা বা গলানোর কারখানা চালানো যাবে না।














