খুলনায় ২৪ ঘণ্টায় তিনজনকে গুলি
banner

খুলনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। জেলার পৃথক তিনটি এলাকায় ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের দুজন সাবেক নেতাসহ মোট তিনজনকে প্রকাশ্যে গুলি করেছে সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা।

একের পর এক এসব গুলির ঘটনায় খুলনাজুড়ে সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

সবশেষ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বটিয়াঘাটা উপজেলার চক্রখালী বাজারে যুবদলের সাবেক নেতা অহিদুল ইসলাম বাদলকে গুলি করা হয়।

এর আগে সোমবার দিবাগত রাতে একই উপজেলার বড় কড়িয়ায় ছাত্রদলের সাবেক নেতা সোহেল শেখকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা।

অন্যদিকে মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে নগরীর নিরালা আবাসিক এলাকায় জাপান টোব্যাকো কোম্পানির কর্মী সালমান হাওলাদারকে গুলি করে ল্যাপটপের ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

যেভাবে ঘটে পৃথক তিন গুলির ঘটনা

প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শেষ করে গ্রামে ফিরছিলেন বটিয়াঘাটার জলমা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সভাপতি অহিদুল ইসলাম বাদল।

তিনি মোটরসাইকেলে চক্রখালী বাজারে পৌঁছালে দুই অস্ত্রধারী খুব কাছ থেকে তাঁকে গুলি করে পালিয়ে যায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এর আগে সোমবার দিবাগত রাতে বটিয়াঘাটার বড় কড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে মোটরসাইকেলে বসে থাকা অবস্থায় আমিরপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সোহেল শেখকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে দুর্বৃত্তরা।

তাঁর ডান হাত ও পেটে গুরুতর জখম হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবির সিদ্দিকী শুভ্র জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসা উদ্ধার করেছে এবং হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নেমেছে।

একই দিন বেলা ১১টার দিকে খুলনা মহানগরীর নিরালা ১৭ নম্বর সড়কে ল্যাপটপের ব্যাগ ছিনতাই করতে জাপান টোব্যাকোর অফিস সহকারী সালমান হাওলাদারকে (২৩) পেটে গুলি করে চার দুর্বৃত্ত।

টাকা ভর্তি ব্যাগ মনে করে ভুলবশত ল্যাপটপের ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে গেছে ছিনতাইকারীরা। খুলনা থানার ওসি লোকমান হোসেন জানান, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অপরাধীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

পাঁচ দিনে গুলিতে ২ মৃত্যু, ১০ মাসে ৭১ হত্যাকাণ্ড

খুলনায় গত পাঁচ দিনের ব্যবধানে দুজনকে গুলি করে হত্যা এবং ছয়জনকে গুলি করে গুরুতর আহত করা হয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত গত ১০ মাসে খুলনায় গুলি, কুপিয়ে বা অন্য উপায়ে অন্তত ৭১ জনকে হত্যা করা হয়েছে। এসব ঘটনায় মামলা হয়েছে ৬৯টি।

পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, অধিকাংশ হত্যাকাণ্ডের পেছনে অবৈধ অস্ত্র ও মাদক কারবার, চাঁদাবাজির আধিপত্য বিস্তার, পূর্বশত্রুতা এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যকার অভ্যন্তরীণ বিরোধ কাজ করছে।

একের পর এক গুলির ঘটনা ঘটলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।