রাজধানীতে মোটরসাইকেল কেনার ফাঁদে ফেলে এক ব্যবসায়ীকে বাসায় আটকে রেখে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীকে মারধর করে ৭০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার পর প্রাইভেটকারে করে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার সময় চেকপোস্টের পুলিশের সহায়তায় তিনি রক্ষা পান।
এই ঘটনায় প্রতিরক্ষা গোড়ায়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) দুই সদস্য ও এক আনসার সদস্যসহ মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার (২৫ অক্টোবর) তাদের আদালতে হাজির করা হলে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
যেভাবে ফাঁদে ফেলা হয় ব্যবসায়ীকে
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মো. শরিফ পেশায় একজন মোটরসাইকেল বিক্রেতা। ভাষানটেক এলাকার প্রতিবেশী আনসার সদস্য সোহেল রানার সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক ছিল।
গত শনিবার রাতে সোহেলের কথামতো একটি নতুন মোটরসাইকেল কেনার উদ্দেশ্যে শরিফ মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা মডেল টাউনে যান।
সেখানে সোহেল তাঁকে একটি ভবনের ষষ্ঠ তলার ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর ওয়াশরুমে যাওয়ার বাহানায় সোহেল বাসা থেকে বের হয়ে যান।
এর পরপরই সার্জেন্ট আল মামুন, ল্যান্স করপোরাল মো. নুরুজ্জামান, নিরাপত্তাপ্রহরী মুকুল গাজী ও সোনিয়া নামের এক নারী ওই ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেন। তাঁরা শরিফকে জিম্মি করে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।
প্রাণ বাঁচাতে শরিফ মোটরসাইকেল কেনার জন্য সঙ্গে থাকা ৭০ হাজার টাকা তাঁদের হাতে তুলে দেন। কিন্তু তাতেও ক্ষান্ত না হয়ে অভিযুক্তরা তাঁকে বেধড়ক মারধর করেন এবং আরও ১০ লাখ টাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন।
পুলিশের চেকপোস্টে গাড়ি থেকে লাফিয়ে রক্ষা
এজহারে আরও উল্লেখ করা হয়, পরিবারের কাছে ফোন করে টাকা জোগাড়ের চেষ্টার একপর্যায়ে শনিবার রাত পৌনে ৩টার দিকে শরিফকে জোরপূর্বক একটি সাদা রঙের টয়োটা প্রোবক্স গাড়িতে তোলা হয়।
গাড়িতে আগে থেকেই মাহফুজুর রহমান ও জিয়াউল ইসলাম নামে আরও দুজন ছিলেন। পরে তাঁকে শ্যামলীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের বিপরীত পাশে নিয়ে গাড়িতে আটকে রাখা হয়।
এ সময় অভিযুক্তরা চা পান করার জন্য গাড়ি থেকে নামলে পুলিশের একটি টহল গাড়ি দেখে শরিফ চলন্ত বা থামানো গাড়ি থেকে লাফ দিয়ে নেমে পড়েন এবং শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশের কাছে গিয়ে পুরো ঘটনা খুলে বলেন।
শেরেবাংলা নগর থানার শ্যামলীর শিশুমেলা সংলগ্ন চেকপোস্টে দায়িত্বরত পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তৎপর হয়ে পাঁচজনকে আটক করে। পরবর্তীতে ঘটনার সূত্রপাত মোহাম্মদপুর থানা এলাকায় হওয়ায় আটক ব্যক্তিদের মোহাম্মদপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়।
এছাড়া অভিযান চালিয়ে আনসার সদস্য সোহেল রানাকেও গ্রেপ্তার করে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ এবং অপহরণে ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটি জব্দ করা হয়।
মামলা ও আদালতের নির্দেশ
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. শরিফ বাদী হয়ে আটজনকে আসামি করে মোহাম্মদপুর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন। মামলাটিতে চাঁদাবাজি, মারধর ও অপহরণের গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।
রোববার গ্রেপ্তার ছয়জনকে আদালতে হাজির করা হলে শুনানি শেষে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
তবে এ চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি নিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের কোনো কর্মকর্তা গণমাধ্যমের সামনে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে রাজি হননি।














