দিল্লিতে বিক্ষোভ ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী আটক
ছবি: সংগৃহীত
banner

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে দিল্লি। ভোটার তালিকা কারচুপির অভিযোগ তুলে ‘দিল্লি চলো’ কর্মসূচি ও বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়।

এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীজুড়ে অভূতপূর্ব পুলিশি ধরপাকড় শুরু হয়েছে। বিক্ষোভে যোগ দিতে আসার পর অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ চারজন সাবেক মুখ্যমন্ত্রীকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

‘দ্য হিন্দু’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার সকাল থেকে চলা এই বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অন্তত পাঁচ হাজার বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে পুলিশ।

আটক হলেন যারা

দিল্লির যন্তর মন্তরে সিইসিবিরোধী বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার আগেই একে একে আটক হন হেভিওয়েট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা। আটক হওয়া চার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী হলেন –

  • অরবিন্দ কেজরিওয়াল: আম আদমি পার্টির (এএপি) নেতা ও দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী। দিল্লি বিমানবন্দরে বা যন্তরমন্তরের পথে নামার আগেই তাঁকে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়। পুলিশি বাসের ভেতর থেকে ভিডিও শেয়ার করে তিনি আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
  • মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী। গ্রেপ্তারের পর বর্তমানে তিনি থানায় অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেছেন।
  • পিনারাই বিজয়ন: কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী।
  • মানিক সরকার: ত্রিপুরার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী।
দিল্লিতে বিক্ষোভ ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী আটক
ছবি: সংগৃহীত

এ ছাড়া ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপক, অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) কেন্দ্রীয় সভাপতি নেহা বোরা এবং জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকেও দিল্লি পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে আটক করা হয়।

ভারতের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ল প্রতিবাদ

দিল্লির এই প্রতিবাদের ঢেউ দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে ভারতের অন্যান্য রাজ্যেও। বেঙ্গালুরু, মুম্বাই, চেন্নাই, চণ্ডীগড়, কলকাতা, পাটনা ও হায়দরাবাদে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ছাত্রসংগঠনের পক্ষ থেকে তীব্র বিক্ষোভ ও সংহতি মিছিলের খবর পাওয়া গেছে।

  • বেঙ্গালুরু: ফ্রিডম পার্কে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করার সময় অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশ।
  • মুম্বাই: আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশি নজরদারি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।
  • চেন্নাই ও চণ্ডীগড়: চেন্নাইতে এআইএসএফ ও এআইওয়াইএফের কর্মীরা এবং চণ্ডীগড়ে আপসহ অন্যান্য দলের পক্ষ থেকে প্রতীকী প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়।
  • কলকাতা, পাটনা ও হায়দরাবাদ: কলকাতার বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সংহতি মিছিল বের করেন। পাশাপাশি পাটনা ও হায়দরাবাদেও ছাত্রসংগঠনগুলো বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে।

দিল্লির এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতের বিভিন্ন আঞ্চলিক দলগুলো তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং পরিস্থিতি দিন দিন আরও ঘনীভূত হচ্ছে।