তিব্বত বন্যা ২০২৬
photo- ABC News

চীনের কর্তৃপক্ষ রোববার (৩০ আগস্ট ২০২৬) জানিয়েছে, তিব্বত অঞ্চলে গত বুধবারের ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে নিখোঁজদের মধ্যে ২৩টি দেশের মোট ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন।

এ নিয়ে তিব্বতে মোট নিখোঁজের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৪৬ জনে, আর মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে পৌঁছেছে।

নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকদের দেশভিত্তিক তালিকা

চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া আঞ্চলিক সরকারের সংবাদ সম্মেলনের বরাত দিয়ে নিখোঁজ বিদেশিদের যে তালিকা প্রকাশ করেছে, তাতে সবচেয়ে বেশি নিখোঁজ নেপালি নাগরিক।

  • নেপাল: ১০৪ জন
  • ভারত: ৪৯ জন
  • লাটভিয়া: ৩৩ জন
  • যুক্তরাষ্ট্র: ১৮ জন
  • যুক্তরাজ্য: ১৫ জন
  • কানাডা: ৬ জন
  • অস্ট্রেলিয়া: ৬ জন
  • দক্ষিণ আফ্রিকা: ৪ জন
  • মালয়েশিয়া, জার্মানি, রাশিয়া: ৩ জন করে
  • আয়ারল্যান্ড, এস্তোনিয়া, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, নিউজিল্যান্ড: ২ জন করে
  • কাজাখস্তান, ফিনল্যান্ড, লিথুয়ানিয়া, পর্তুগাল, ইউক্রেন, স্পেন, হাঙ্গেরি: ১ জন করে

এই তালিকাটি চীনের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রথম বিস্তারিত জাতীয়তা-ভিত্তিক তথ্য, যা গত বুধবারের দুর্যোগের পর থেকে বেইজিংয়ের কম তথ্যপ্রকাশের প্রেক্ষিতে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

আরো পড়ুন- নতুন করে উপচে পড়ল হ্রদ: নেপাল-তিব্বত সীমান্তে বন্যার নতুন আশঙ্কা

তিব্বত বন্যা ২০২৬
photo- ABC News

নেপালে মৃত্যু ৭৩৪, নিখোঁজ প্রায় ২,৫০০

তিব্বতের বিপরীতে প্রতিবেশী নেপালে দুর্যোগের মাত্রা অনেক বেশি। নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ রোববার সকাল পর্যন্ত ৭৩৪ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে এবং প্রায় ২,৫০০ মানুষ এখনও নিখোঁজ বলে জানিয়েছে।

  • নেপাল: মৃত ৭৩৪, নিখোঁজ ২,৪৯৮–২,৫০২ (সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী)
  • তিব্বত (চীন): মৃত ১৬, নিখোঁজ ৫৪৬ (যার মধ্যে ২৬১ বিদেশি)

এভাবে মোট মৃতের সংখ্যা অন্তত ৭৫০ ছাড়িয়েছে এবং নিখোঁজের সংখ্যা ৩,০০০-এর বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দুর্যোগটি কীভাবে ঘটেছিল: হিমবাহ ধস ও ভূমিধস

চীনা কর্মকর্তারা রোববার দুর্যোগের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। দূর থেকে তথ্য সংগ্রহের প্রযুক্তি ও ঘটনাস্থল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, স্থানীয় সময় বুধবার সকাল ১০টার দিকে নেপালের লাংটাং লিরুং পর্বতশৃঙ্গে (উচ্চতা প্রায় ১৭,০০০ ফুট) হিমবাহ ধসে পড়ে।

চীনের একাডেমি অব সায়েন্সেস-এর ইনস্টিটিউট অব মাউন্টেন হ্যাজার্ডস অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের অধ্যাপক সু পেংছেংয়ের মতে, বরফের বিশাল অংশটি প্রায় ৪,০০০ ফুট নিচে নেমে আসে, যার ফলে পাহাড়ের ঢাল ক্ষয়ে বিশাল ভূমিধস তৈরি হয়।

ধ্বংসাবশেষ ঘণ্টায় প্রায় ১৩ মাইল বেগে নেপাল–চীন সীমান্তের গিরং বন্দরে আঘাত হানে।

  • ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা: প্রায় ১৭২ একর
  • ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবন: সীমান্ত পারাপার এলাকার ২৭টি ভবন

উদ্ধার অভিযান ও তথ্য নিয়ন্ত্রণ

ভূমিধসের ৫০ ঘণ্টার বেশি সময় পর শুক্রবার বিকেলে চীনের উদ্ধারকর্মীরা গিরংয়ের মূল ঘটনাস্থলে পৌঁছান। নেপালের কাঠমান্ডুতে অবস্থিত চীনা দূতাবাস রোববার জানিয়েছে, হেলিকপ্টার পাঠিয়ে ৯৪ জন চীনা নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে।

তবে দুর্যোগের পর থেকে চীনা কর্তৃপক্ষ তথ্যের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচার হয়নি এমন অনেক কনটেন্ট-বিশেষ করে দুর্যোগের ছবি ও ভিডিও-সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বড় ধরনের দুর্যোগের পর চীন প্রায়ই এমন তথ্য নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে, যাতে জনমত নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং সরকারবিরোধী কোনো আলোচনা তৈরি হতে না পারে।