ইরানের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান চরম উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে নির্মাণাধীন ডারখোভিন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র লক্ষ্য করে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।

আজ রোববার (১৯ জুলাই ২০২৬) ভোররাতে এই হামলার ঘটনা ঘটে। আন্তর্জাতিক সুরক্ষায় থাকা একটি শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলাকে স্পষ্টতই আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন বলে দাবি করেছে তেহরান।

আজ দুপুরে এক বিবৃতিতে ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থা (AEOI) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এই হামলার খবর নিশ্চিত করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তবে প্রাথমিক এই বিবৃতিতে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির ভেতরের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের সুনির্দিষ্ট বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি।

আরো পড়তে ক্লিক করুন- তেহরানের গ্র্যান্ড মুসাল্লায় আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ীর জানাজা

ভোররাতের রুদ্ধশ্বাস হামলা

ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থার বরাতে আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, স্থানীয় সময় আজ ভোর ৩টা ৩৯ মিনিটে খুজেস্তান প্রদেশের ডারখোভিন (কারুন নামেও পরিচিত) পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণাধীন সাইট লক্ষ্য করে বেশ কয়েকটি প্রজেক্টাইল বা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে মার্কিন বাহিনী।

ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, এই স্থাপনাটি আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) সেফগার্ডস ও নিবিড় নজরদারির অধীনে থাকা একটি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ প্রকল্প। ফলে এর ওপর যেকোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসন আন্তর্জাতিক অপরাধের শামিল।

শান্তি চুক্তি উপেক্ষা করেই রক্তক্ষয়ী সংঘাত

গত জুন মাসেই চিরবৈরী এই দুই দেশ পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধ বন্ধ করতে এবং একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর করেছিল। তবে সেই শান্তি প্রক্রিয়াকে তোয়াক্কা না করেই মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ওমান ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন বাহিনী ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তু ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় উপর্যুপরি হামলা চালাচ্ছে। এর জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির ওপর দূরপাল্লার ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে পাল্টা আঘাত হানছে।

পারমাণবিক স্থাপনায় রোববারের এই মার্কিন হামলা চলমান সংঘাতকে এক নতুন ও বিপজ্জনক মাত্রায় নিয়ে গেল বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকরা।