মেসিদের হারিয়ে বিশ্বজয়ী স্পেন। ১৬ বছর আগে জোহানেসবার্গে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার সেই ঐতিহাসিক অতিরিক্ত সময়ের গোলের কথা মনে আছে? ঠিক একই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটল নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে!
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬™-এর শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে মেসিময় আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বজয়ের ট্রফি উঁচিয়ে ধরল স্পেন।

পুরো ১২০ মিনিটের লড়াইয়ে স্প্যানিশদের দাপটের সামনে একরকম অসহায় ছিল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ৬৮ শতাংশ বল পজেশন এবং ২০টি শট নেওয়া স্পেন ম্যাচের ১০৬তম মিনিটে বদলি খেলোয়াড় ফেরান তোরেসের অসাধারণ হাফ-ভলিতে বহুল কাঙ্ক্ষিত সেই জয়ের গোলটি খুঁজে পায়।
একপেশে ফাইনাল ও এমি মার্টিনেজের প্রাচীর
১-০ গোলের ব্যবধান মনে হলেও, মাঠের লড়াইয়ে এটি ছিল বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম একপেশে ফাইনাল। ম্যাচের শুরু থেকেই বল দখলে নিয়ে আর্জেন্টিনাকে চেপে ধরে স্পেন।
অন্য দিকে, আগের নকআউট ম্যাচগুলোতে পিছিয়ে পড়ে ঘুরে দাঁড়ানো আর্জেন্টিনা এবার তাদের মহাতারকা লিওনেল মেসিকে খেলায় ফেরাতেই ছটফট করেছে। পুরো ম্যাচে মাত্র ৩টি শট নিতে পেরেছিল আর্জেন্টিনা।

যদি আর্নেস্টো এমি মার্টিনেজ পোস্টের নিচে চিনের প্রাচীর হয়ে না দাঁড়াতেন, তবে ব্যবধান আরও বড় হতে পারত।
নির্ধারিত সময়ের একদম শেষ মুহূর্তে এনজো ফার্নান্দেজ দ্বিতীয় হলুদ কার্ড (লাল কার্ড) দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা।
এরপর লামিনে ইয়ামালের ফ্রি-কিক অসাধারণ দক্ষতায় বাম দিকে ডাইভ দিয়ে সেভ করেন মার্টিনেজ।
১০৬ মিনিটের সেই মহাকাব্যিক গোল
একজন কম নিয়ে খেলা আর্জেন্টিনার বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে আক্রমণ আরও ধারালো করে স্পেন।
৯৬ মিনিটে নিকো উইলিয়ামসের একটি গোল ওটামেন্ডিকে ফাউল করার অভিযোগে বাতিল হলে ক্ষোভে ফেটে পড়ে স্প্যানিশ বেঞ্চ। কিন্তু সেই ক্ষোভ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।

ম্যাচের ১০৬তম মিনিটে ডান দিক থেকে পেদ্রো পোরোর নেওয়া লং বল ফাঁকায় পেয়ে যান উইলিয়ামস।
তিনি হেডে বল বাড়িয়ে দেন বক্সের ভেতর থাকা ফেরান তোরেসের দিকে। ঠাণ্ডা মাথায় দূরপাল্লার হাফ-ভলিতে বলকে জালে পাঠিয়ে উল্লাসে মাতেন তোরেস।

স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে বসে তখন এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হচ্ছিলেন ২০১০ সালের বিশ্বজয়ী দলের নায়ক ইনিয়েস্তাসহ অন্য স্প্যানিশ কিংবদন্তিরা। এই জয়ে লা রখাদের জার্সিতে যুক্ত হলো দ্বিতীয় বিশ্বজয়ের তারকা!
ম্যাচের ফলাফল: স্পেন ১ (ফেরান তোরেস ১০৬′) – ০ আর্জেন্টিনা (অতিরিক্ত সময়ে সমাপ্ত)।
সূত্র: ওশেনিয়া ফুটবল









