ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ব্রোঞ্জ জিতল ইংল্যান্ড
OFC Media

কেউ এই ম্যাচটি খেলতে চায়নি, কিন্তু ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত এমন রূপ নিল যা কেউ মিস করতে চায়নি! সেমিফাইনালের বিদায়ের হতাশা ভুলে এক মহাকাব্যিক লড়াইয়ে ফ্রান্সকে ৬-৪ গোলে হারিয়ে ফিফা বিশ্বকাপের ব্রোঞ্জ মেডেল নিজেদের করে নিয়েছে ইংল্যান্ড।

১৯৬৬ সালের পর অর্থাৎ দীর্ঘ ৬০ বছরের মধ্যে বিশ্বকাপে এটিই থ্রি লায়ন্সের সর্বোচ্চ অর্জন। মিয়ামির ফ্লরিডায় উপস্থিত হাজার হাজার দর্শকের সামনে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী উপহার দিল ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এক রোমাঞ্চকর থ্রিলার।

ম্যাচের মূল নায়ক বুকায়ো সাকা। ১৯৬৬ সালের ফাইনালের কিংবদন্তি স্যার জিওফ হার্স্টের পর প্রথম ইংলিশ খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে হ্যাটট্রিক করার ঐতিহাসিক কীর্তি গড়লেন এই আর্সেনাল তারকা।

ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বকাপের

প্রথমার্ধেই ৪-০ গোলে ইংল্যান্ডের টর্নেডো

ম্যাচের শুরু থেকেই ফরাসি রক্ষণভাগের ওপর টর্নেডো চালায় থমাস টুখেলের শিষ্যরা। ম্যাচের বয়স যখন মাত্র ২ মিনিট, তখনই ডেক্লান রাইসের চমৎকার ফিনিশিংয়ে লিড নেয় ইংল্যান্ড, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে ইংলিশদের দ্বিতীয় দ্রুততম গোল। ম্যাচের ১৮ মিনিটে এজরি কোনসার গ্লান্সিং হেডারে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়।

৩৭ মিনিটে মার্কাস রাশফোর্ডের পাস থেকে সাকা দলের তৃতীয় গোলটি করার পর ম্যাচ পুরোপুরি ইংল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে (৪৫+১ মিনিটে) সাকা নিজের দ্বিতীয় ও দলের চতুর্থ গোলটি করলে ফ্রান্সের ওপর চরম বিপর্যয় নেমে আসে। ৪-০ গোলের অভাবনীয় ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় থ্রি লায়ন্স।

এমবাপ্পের রেকর্ড ও ফ্রান্সের অবিশ্বাস্য প্রতিরোধ

দ্বিতীয়ার্ধে সম্পূর্ণ অন্য এক ফ্রান্সকে দেখা যায়। বিরতির ঠিক পরপরই কিলিয়ান এমবাপ্পে গোল করে ফরাসিদের ম্যাচে ফেরান। এরপর ব্র্যাডলি বারকোলা ঠাণ্ডা মাথায় ব্যবধান আরও কমিয়ে আনেন।

৬৬ মিনিটে এমবাপ্পে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করার মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপে নিজের ১০ম গোল পূর্ণ করেন। এই গোলের মাধ্যমে তিনি গোল্ডেন বুটের দৌড়ে শীর্ষে ওঠার পাশাপাশি ফিফা বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় চূড়ায় বসেন। ৪-৩ ব্যবধানে চলে আসা ম্যাচে তখন ফ্রান্সের এক অলৌকিক কামব্যাকের আবহ তৈরি হয়েছিল।

OFC Media

পেনাল্টি, বেলিংহামের জাদু ও শেষ হাসি

তবে সেই কামব্যাক হতে দেননি ডেড স্পেন্স। ফরাসি ডি-বক্সের ভেতর তিনি ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড। ৮৭ মিনিটে পেনাল্টি থেকে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন বুকায়ো সাকা (৫-৩)। নাটকের তখনও বাকি ছিল; অতিরিক্ত সময়ে (৯০+৬ মিনিটে) ওসমানে ডেম্বেলে চমৎকার এক কার্লিং শটে ফ্রান্সের চতুর্থ গোলটি করেন।

তবে ম্যাচের ভাগ্য পুরোপুরি নিশ্চিত করেন বদলি হিসেবে নামা জুড বেলিংহাম। ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে (৯০+৮ মিনিটে) ফ্রান্সের ক্লান্ত রক্ষণভাগকে বোকা বানিয়ে একক নৈপুণ্যে ইংল্যান্ডের ষষ্ঠ গোলটি করেন এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা।

ম্যাচের ফলাফল: ফ্রান্স ৪ (এমবাপ্পে ৪৮’, ৬৬’, বারকোলা ৫৪’, ডেম্বেলে ৯০+৬’) – ৬ ইংল্যান্ড (রাইস ২’, কোনসা ১৮’, সাকা ৩৭’, ৪৫+১’, ৮৭’ (পেনাল্টি), বেলিংহাম ৯০+৮’)।