জিয়ার খুনি মোজাফফর
ছবি: ইত্তেফাক

দীর্ঘ ৪৫ বছর ছদ্মবেশে আত্মগোপনে থেকেও শেষ রক্ষা হলো না। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক সাবেক মেজর (অব.) মো. মোজাফফর হোসেনকে অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

গত বুধবার (১৫ জুলাই ২০২৬) গভীর রাতে রাজধানীর অভিজাত এলাকা বনানী ডিওএইচএস-এর একটি বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। নাকের নিচে থাকা একটি পুরোনো জন্মদাগ এবং মেয়ের কর্মস্থলের সূত্র ধরে ডিবির চালানো এক রুদ্ধশ্বাস ও কৌশলী অভিযানে ধরা পড়েন এই শীর্ষ খুনি।

মেয়ের সহকর্মী সেজে ডিবির এন্ট্রি, ‘মুরব্বি’ ডাকেই কেল্লাফতে!

ডিবি সূত্রে জানা যায়, মোজাফফরের মেয়ে একটি বেসরকারি টেলিকম প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। দীর্ঘ কয়েক মাস মেয়ের গতিবিধি নজরদারিতে রেখে বনানী ডিওএইচএসের বাড়িটি চিহ্নিত করে ডিবি। বুধবার গভীর রাতে ডিবির একটি চৌকস দল সাধারণ পোশাকে ওই বাসার কলিংবেল চাপে। দরজা খোলার পর ভয়ভীতি না দেখিয়ে কর্মকর্তারা নিজেদের মেয়ের অফিসের কর্মী পরিচয় দেন।

এত রাতে অফিসের লোক দেখে সন্দেহ নিয়ে ভেতর থেকে এক বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি এগিয়ে আসেন। ডিবির কর্মকর্তারা অল্প আলোতেই তার নাকের নিচের পরিচিত কালো দাগটি চিনে ফেলেন।

নিশ্চিত হওয়ার জন্য তারা বলেন, ‘মুরব্বি, আমরা তো আপনাকে চিনি না, আপনি কে?’ সরল বিশ্বাসে ওই বৃদ্ধ উত্তর দেন, ‘আমি মোজাফফর, মেয়ের বাবা।’ নিজের মুখে স্বীকারোক্তি আসতেই মুহূর্তের মধ্যে তাকে হাতকড়া পরায় ডিবি।

‘দ্য প্রেসিডেন্ট হ্যাজ বিন কিল্ড’—হত্যাকাণ্ডের সেই ভয়াল রাত

১৯৮১ সালের ৩০ মে রাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের অন্যতম মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন এই মোজাফফর। আক্রমণের রাতে তিনি সরাসরি রাষ্ট্রপতির কক্ষের বাইরে এনে ঠান্ডা মাথায় সরাসরি গুলি চালান। এরপর তৎকালীন জিওসি মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরকে ফোনে ইংরেজিতে সেই ঐতিহাসিক সংক্ষিপ্ত বার্তা দেন-‘দ্য প্রেসিডেন্ট হ্যাজ বিন কিল্ড’।

পরবর্তীতে তিনি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালিয়ে যান এবং জাল পাসপোর্টে একাধিক দেশ ঘুরে জীবনের শেষভাগে অত্যন্ত গোপনে দেশে ফিরে বনানী ডিওএইচএসে আত্মগোপন করেন।

ডিএমপি ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, যেহেতু তিনি কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক সামরিক কর্মকর্তা, তাই প্রয়োজনীয় আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সূত্র: ইত্তেফাক