চট্টগ্রাম নগরে ২ কোটি টাকা চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে প্রকাশ্য দিবালোকে সশস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। হামলাকারীরা কার্যালয় ভাঙচুরের পাশাপাশি প্রায় ৩৫ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরের চকবাজার থানাধীন চন্দনপুরা-বাকলিয়া এক্সেস সড়কে অবস্থিত ডিজিটাল ডট নেট (ডিডিএন)-এর কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানিয়েছে, বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারীরাই এই হামলার সঙ্গে জড়িত। জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানানো হয়েছে।

চাঁদা দাবির ঘটনা যেভাবে শুরু
প্রতিষ্ঠানের মালিক আদিল বিন মামুনের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার দুই দিন আগে একটি বিদেশি নম্বর থেকে তাঁকে ফোন করা হয়। ফোনদাতা নিজেকে ডেভিড ইমন বা মোবারক হোসেন ইমন পরিচয় দিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যেতে হলে একসঙ্গে দুই কোটি ও প্রতি মাসে দশ লাখ টাকা দাবি করেন। চাঁদা না দেওয়ার কারণেই প্রতিষ্ঠানে হামলা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
মামুন আরও জানান, কথোপকথনের সময় ওই ব্যক্তি নিজের প্রভাব জাহির করতে পুলিশ কমিশনারকে নিজের ছবি চেনানোর কথাও বলেন এবং স্মার্ট গ্রুপের কর্ণধার মুজিবুর রহমানের বাসভবনে গুলি চালানোর ঘটনাও উল্লেখ করে হুমকি দেন।
সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ল তাণ্ডবের দৃশ্য
ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সশস্ত্র দল হঠাৎ কার্যালয়ে প্রবেশ করে। দেশীয় অস্ত্রসহ থাকা এই দলটি অফিসের কম্পিউটার, স্টাফদের ফোন ও বিভিন্ন আসবাবপত্র ভেঙে ফেলে। এক ব্যক্তিকে কুড়াল দিয়ে যন্ত্রপাতি ভাঙতে দেখা যায়। এ সময় উপস্থিত কর্মী ও কর্মকর্তাদের ভয়ভীতিও দেখানো হয়।
প্রতিষ্ঠানের পরিচালক রিদোয়ানুল কবির জানান, হামলাকারীরা কর্মীদের বেতনের জন্য রাখা প্রায় ৩৫ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। ঘটনার পর এলাকার ইন্টারনেট ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুর হোসেন মামুন জানিয়েছেন, জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে এবং মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

একই চক্রের আগের ঘটনাগুলো
এ ঘটনার আগেও একই এলাকায় চাঁদাবাজির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। গত ৯ মে চাঁদা না দেওয়ায় এক সাংবাদিককে গুলি করার হুমকি দেওয়া হয়েছিল, যে ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। এ ছাড়া চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে পুলিশি পাহারায় থাকা অবস্থাতেও স্মার্ট গ্রুপের পরিচালকের বাসায় গুলি চালানো হয়, যার আগে জানুয়ারিতেও একই বাসায় গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছিল।
কে এই মোবারক হোসেন ইমন
পুলিশি তথ্যমতে, মোবারক হোসেন ওরফে ইমন ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বিরুদ্ধে জোড়া খুন ও এক সন্ত্রাসী হত্যাসহ মোট সাতটি মামলা রয়েছে। পুলিশের দাবি, তিনি একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র বহন করেন এবং অস্ত্র চালনায় দক্ষ।
পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর বাহিনীর নেতৃত্বে বর্তমানে মোবারক হোসেন ও মোহাম্মদ রায়হান রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। রায়হানের বিরুদ্ধেও চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও হত্যার অভিযোগে একাধিক মামলা আছে।
পুলিশের ভাষ্যমতে, এই বাহিনীতে অন্তত ৫০ জন সক্রিয় সদস্য রয়েছে, যারা নিয়মিত বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছে। ভুক্তভোগীরা বারবার অভিযোগ করলেও এখনো তাদের গ্রেপ্তার সম্ভব হয়নি।
সূত্র: প্রথম আলো










