লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে একটি আবাসিক ভবনে ঢুকে মা ও তাঁর তিন কন্যাসন্তানকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন ২০২৬) সকালে রায়পুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোডাউন রোড এলাকায় এই ভয়াবহ ও বর্বরোচিত ঘটনাটি ঘটে।

হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় উত্তেজিত ও ক্ষুব্ধ জনতার গণপিটুনিতে ঘাতক যুবকেরও মৃত্যু হয়েছে। হৃদয়বিদারক এই ঘটনায় নিহতরা হলেন—শাহিনুর বেগম (৩৮) এবং তাঁর তিন কন্যা সায়মা আক্তার (২১), ইকরা আক্তার (১৭) ও শিপা আক্তার (৮)। অন্যদিকে, গণপিটুনিতে নিহত ঘাতক যুবকের নাম অন্তর মজুমদার (২৮)।

চিকিৎসকদের চোখে বিভীষিকাময় সেই দৃশ্য

রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বাহারুল আলম জানান, ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় পাঁচজনকেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়েছিল। নিহত শাহিনুর ও তাঁর তিন কন্যাসন্তানের শরীরের একাধিক স্থানে ধারালো অস্ত্রের গভীর ও মারাত্মক আঘাতের চিহ্ন ছিল। বিশেষ করে মেজো মেয়ে ইকরার ওপর আঘাত ছিল সবচেয়ে বিভীষিকাময় ও ক্ষতবিক্ষত।

চিকিৎসা কর্মকর্তা আরও জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার পর চিকিৎসকরা প্রথমে মা শাহিনুর বেগম, বড় মেয়ে সায়মা এবং ছোট মেয়ে শিপাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আশঙ্কাজনক অবস্থায় মেজো মেয়ে ইকরাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। তবে পথিমধ্যে ঘটনার প্রায় ছয় ঘণ্টা পর সে-ও মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। এ ছাড়া গণপিটুনিতে আহত ঘাতক অন্তর মজুমদারের মাথায় গুরুতর আঘাত থাকায় তাকে সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে সেখানে তার মৃত্যু ঘটে।

ঘাতক ছিল পূর্বপরিচিত সাবেক ভাড়াটিয়া

ভয়াবহ এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক জানান, ঘাতক অন্তর মজুমদার পূর্বে প্রায় দেড় বছর ওই একই ভবনে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করত। আনুমানিক ৭ থেকে ৮ মাস আগে সে সেখান থেকে বাসা পরিবর্তন করে চলে যায়।

পূর্বপরিচিত হওয়ার সুবাদে সে অনায়াসে সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে ওই বাসায় প্রবেশ করে এবং এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটায় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। তবে ঠিক কী কারণে এই নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ এখনো উদঘাটিত হয়নি।

রায়পুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া জানিয়েছেন, নিহতদের মরদেহগুলো বর্তমানে হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পুরো ঘটনাটির রহস্য উন্মোচনে পুলিশি তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।

এদিকে, এই ভয়ংকর ও আকস্মিক ট্র্যাজেডিতে পরিবারের একমাত্র বেঁচে থাকা পুরুষ সদস্য, নিহতের ছেলে সিফাত তাঁর মা ও তিন বোনকে একসাথে হারিয়ে সম্পূর্ণ বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। তাঁর এই গভীর শোক ও আহাজারিতে পুরো এলাকায় চরম শোকাবহ পরিবেশ ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।