পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত বহুল আলোচিত বৈঠকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কোনো সমঝোতা হয়নি। প্রায় ২১ ঘণ্টার টানা আলোচনার পরও চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়ে মার্কিন প্রতিনিধিদল দেশে ফিরে যাচ্ছে।
রোববার ভোরে ইসলামাবাদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি বলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া শর্তগুলো—বিশেষ করে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার অঙ্গীকার—গ্রহণ করেনি। ফলে আলোচনায় অগ্রগতি সম্ভব হয়নি।
ভ্যান্স আরও বলেন, “আমরা আমাদের অবস্থান ও সীমারেখা স্পষ্ট করেছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো যায়নি, যা ইরানের জন্যই বেশি নেতিবাচক।”
তিনি জানান, আলোচনার সময় তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে অন্তত ছয়বার যোগাযোগ করেছেন।
ইরানের অভিযোগ: যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত দাবি
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র এমন কিছু দাবি তুলেছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।ইরানের একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, মার্কিন পক্ষ হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করা এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছে—যা যুদ্ধক্ষেত্রে অর্জন করা সম্ভব হয়নি।
তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনাকে দীর্ঘায়িত করার জন্য ইরানকে দায়ী করার চেষ্টা করছে, যদিও প্রকৃত বাধা সৃষ্টি করেছে আমেরিকার অতিরিক্ত শর্ত।
আরো পড়ুন- ইরানের কঠোর শর্ত: লেবাননে পূর্ণ যুদ্ধবিরতি ও জব্দ সম্পদ ছাড় না হলে
যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ
ইরানি সূত্র আরও অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক মিত্র ইসরায়েল বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে। এমনকি সম্প্রতি লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ফসফরাস বোমা ব্যবহার করে পরিবেশ দূষণের ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করা হয়।
ক্ষতিপূরণ ও নিষেধাজ্ঞা ইস্যু
ইরান দাবি করেছে, আক্রান্ত দেশ হিসেবে তারা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকার রাখে। একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের সম্পদ অবমুক্ত করার বিষয়টিও তাদের প্রধান দাবি।
তাদের মতে, এসব দাবি নতুন নয়—যুদ্ধের আগেও ওমানে অনুষ্ঠিত আলোচনায় এগুলোই ছিল মূল ভিত্তি।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও বৈশ্বিক প্রভাব
ইসলামাবাদের এই বৈঠকটি ছিল এক দশকের বেশি সময়ের মধ্যে প্রথম সরাসরি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এটিই সর্বোচ্চ পর্যায়ের সংলাপগুলোর একটি।
এই আলোচনা শুধু দুই দেশের সম্পর্ক নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাত, যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু হওয়ার সম্ভাবনার ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ এই প্রণালী দিয়ে হয়। সংঘাতের কারণে এটি বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ইতোমধ্যে বেড়ে গেছে এবং মানবিক সংকটও তীব্র হয়েছে।







