ইরান লেবানন

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, লেবাননে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন এবং ইরানের জব্দকৃত সম্পদ মুক্তি—এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত পূরণ না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনাই শুরু করা যাবে না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে গালিবাফ লিখেছেন, “দুই পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক সম্মতিতে যে দুটি বিষয় স্থির হয়েছে, তা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। লেবাননে যুদ্ধবিরতি এবং আলোচনা শুরুর আগে ইরানের জব্দকৃত সম্পদের ছাড়—এই দুটি শর্ত পূরণ হওয়া আবশ্যক।”

পটভূমি ও প্রেক্ষাপট

সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরও লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকায় এবং ইরানের জব্দ সম্পদ মুক্তির বিষয়টি ঝুলে থাকায় তেহরান কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ইরান মনে করে, লেবানন ইস্যু যুদ্ধবিরতির অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং এটি ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাকিস্তানে অনুষ্ঠেয় আলোচনা অর্থহীন।

গালিবাফের এই বক্তব্য আসার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স পাকিস্তানের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন বলে জানা গেছে। আলোচনায় ইরানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে থাকতে পারেন গালিবাফ নিজেই।

কেন এই শর্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ?

  • লেবানন যুদ্ধবিরতি: ইরানের দাবি, চুক্তিতে লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকায় তেহরান এটিকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে।
  • জব্দকৃত সম্পদ ছাড়: আলোচনার শুরুতেই ইরানের ফ্রোজেন অ্যাসেটস মুক্তি দেওয়া না হলে আস্থা তৈরি হবে না বলে তেহরানের অবস্থান।

এই দৃঢ় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা ও আসন্ন ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

সূত্র: আল-জাজিরা, মিডল ইস্ট আই, টাইমস অব ইসরায়েল ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।