ইসরায়েল হামলা

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে যুদ্ধবিরতি বা উত্তেজনার কোনো লেশমাত্র নেই। শুক্রবারও লেবাননের দক্ষিণ প্রান্তজুড়ে বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF)। এই দফায় তাদের লক্ষ্যবস্তু হয়েছে জরুরি সেবার অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি।

অ্যাম্বুলেন্স লক্ষ্য করে হামলা ও ইসরায়েলি দাবি

লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা (NNA) জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের দেইর কানুন রাস আল-আইন এলাকায় বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে বেশ কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি বিধ্বস্ত ও মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ তাদের সামরিক সরঞ্জাম ও যোদ্ধা পরিবহনের জন্য অ্যাম্বুলেন্স সেবাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। তবে এই দাবির সপক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো শক্তিশালী প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি তেল আবিব, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

উত্তর ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর পাল্টাপাল্টি হামলা

এদিকে ইসরায়েলি হামলার জবাবে শুক্রবার উত্তর ইসরায়েলের বিস্তীর্ণ এলাকায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হিজবুল্লাহ। ইরানপন্থী এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটি দাবি করেছে:

  • কিরিয়াত শিমোনা এলাকায় তাদের যোদ্ধারা সফলভাবে ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
  • এছাড়া মেতুলা, মারগালিওত এবং মিসগাভ আমের এলাকায় শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র বৃষ্টি চালানো হয়েছে।

হিজবুল্লাহর দাবি অনুযায়ী, তাদের এই হামলাগুলো ইসরায়েলি সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে। হামলার পর উত্তর ইসরায়েলের সীমান্ত সংলগ্ন শহরগুলোতে সাইরেন বেজে ওঠে এবং বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে স্বাস্থ্য ও জরুরি সেবার ওপর সরাসরি হামলার ফলে উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, অ্যাম্বুলেন্স ও বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনীকে লক্ষ্যবস্তু করার ফলে লেবাননে মানবিক বিপর্যয় আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।