‘প্রতিদিন গাছে পানি দিবি, যত্ন করে বড় করবি’-শিক্ষার্থীদের হাতে চারাগাছ তুলে দিয়ে নিয়মিত এমন ভালোবাসার কথাই বলতেন প্রধান শিক্ষক রনজিলা পারভিন রুলি।
কথা ছিল ঢাকা থেকে চিকিৎসা শেষে ফিরে অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ নেবেন। ঢাকা থেকে তিনি ফিরেছেন ঠিকই, তবে কফিনবন্দী লাশ হয়ে।
রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে লাশবাহী ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সে করে রনজিলা পারভিনের মরদেহ তাঁর দীর্ঘ ৩৮ বছরের কর্মস্থল বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ি বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আনা হলে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ।
আরো পড়ুন- সংসদ ভবনের সামনে ছিনতাইকারীর টানে শিক্ষিকার মর্মান্তিক মৃত্যু

৩৮ বছরের শিক্ষকতা জীবন:
শিক্ষার্থীদের কাছে ছিলেন মাতৃতুল্য ১৯৮৮ সালে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন রনজিলা পারভিন।
দীর্ঘ ৩৮ বছর নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে মাত্র এক বছর পর অবসরে যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। স্কুলের দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পোশাকসহ নানা প্রয়োজনে সহযোগিতা করতেন তিনি।
বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহফুজা আক্তার কান্নায় ভেঙে পড়ে বলে, ‘ম্যাডাম গাছ দিয়ে বলেছিলেন পানি দিতে। যারা নিয়মিত আসত না, তাদের নাম লিখে রাখতে বলেছিলেন। কথা ছিল ফিরে এসে তাদের বাড়ি যাবেন। কিন্তু ম্যাডাম আর ফিরলেন না।’
সহকারী শিক্ষক ফরিদা ইয়াসমিন স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘ঝড়-বৃষ্টিতেও ম্যাডাম কখনো স্কুল কামাই করতেন না। পাঠদানের ব্যাপারে যেমন কঠোর ছিলেন, তেমনি শিক্ষার্থীদের সন্তানের মতো আগলে রাখতেন।’
বিদ্যালয় মাঠে জানাজা ও শেষ বিদায়
বিদ্যালয় মাঠে ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সে রেখেই রনজিলা পারভিনের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সহস্রাধিক মানুষ অংশ নেন। বাদ আসর গাবতলীর তরফসরতাজ পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
ছিনতাইকারী ‘প্যারা পনির’ গ্রেপ্তার শনিবার (২৯ আগস্ট) ভোরে ঢাকায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে রিকশায় থাকা অবস্থায় ছিনতাইকারীর ব্যাগের টানে পাকা রাস্তায় ছিটকে পড়েন রনজিলা পারভিন।
এতে মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পেয়ে ও মেরুদণ্ড ভেঙে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় মূল সন্দেহভাজন মো. পনির ওরফে ‘প্যারা পনির’ ও তার এক সহযোগীকে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলসহ গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।













