সেলুনে যুবক খুন
ছবি: ইত্তেফাক

ঢাকার কেরানীগঞ্জের আরশিনগরে সেলুনে বসে চুল কাটাচ্ছিলেন ফরহাদ হোসেন (৩০) নামের এক যুবক। হঠাৎ সেখানে ঢুকে পড়ে কয়েকজন দুর্বৃত্ত, প্রথমে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে, পরে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে তাকে।

স্বজনদের দাবি, চাঁদা না দেয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় একটি কিশোর গ্যাংয়ের সাথে বিরোধের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বেলা তিনটার দিকে আরশিনগর এলাকার রাজ সেলুনে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত ফরহাদ পরিবার নিয়ে কেরানীগঞ্জের আরশিনগর এলাকার মেম্বার গলিতে থাকতেন। তার গ্রামের বাড়ি ভোলার দৌলতখান উপজেলার নুরাবাদ গ্রামে।

আরো পড়ুন- উত্তরখানে ইয়াবার পার্টিতে ডেকে নিয়ে গুলি করে হত্যা

চাঁদা না দেয়ায় বিরোধ, দাবি স্বজনদের

ফরহাদের বন্ধু আরিফ ও চাচাতো ভাই আখতার হোসেনের ভাষ্যমতে, মোহাম্মদপুরের মহিরগোলা এলাকায় ফুটপাতে মাছের ব্যবসা করতেন ফরহাদ। সেখানে কিশোর গ্যাং সদস্য আরমান, সোহেল, কাল্লু, সাব্বিরসহ সাত-আটজন তার কাছে চাঁদা দাবি করতেন।

ব্যবসা চালাতে হলে এককালীন ৫০ হাজার টাকা ও প্রতিদিন আলাদা টাকা দেয়ার শর্ত জুড়ে দিয়েছিল তারা। ফরহাদ এতে রাজি না হওয়ায় দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়, আর তারই জেরে মঙ্গলবার দুপুরে এই হামলা চালানো হয় বলে দাবি স্বজনদের।

সিসিটিভি ফুটেজে যেভাবে ধরা পড়লো ঘটনা

সংশ্লিষ্ট সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বেলা ৩টা ৭ মিনিটের দিকে তিনজন ব্যক্তি সেলুনে প্রবেশ করে, যাদের মধ্যে দুজনের মাথায় ক্যাপ ছিল। ভেতরে ঢুকেই একজন পকেট থেকে পিস্তল বের করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করে।

গুলির শব্দে সেলুনের ভেতরে থাকা অন্যরা দৌড়ে বেরিয়ে যান। এরপর বাকি দুজন কোমর থেকে ধারালো চাপাতি বের করে ভেতরে ঢোকে।

ফরহাদ লুঙ্গি পরা অবস্থায় খালি গায়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু পেছন থেকে একজন তার লুঙ্গি টেনে ধরে ফেলায় তিনি পালাতে পারেননি। এ সুযোগে আরেকজন তাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। গুরুতর জখম অবস্থায় তাকে ফেলে রেখেই পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

হাসপাতালে নেয়ার পরই মৃত্যু

স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা মিলে ফরহাদকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত নিজেও কিশোর গ্যাং সদস্য, জানালো পুলিশ

মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ জানায়, নিহত ফরহাদ নিজেও ‘পাটালি গ্রুপ’ নামের একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য ছিলেন এবং মোহাম্মদপুরের বোটঘাট ও ময়ূরভিলা এলাকায় বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।

তার বিরুদ্ধে ছিনতাই ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পূর্ববিরোধের জেরেই হামলা, বলছে পুলিশ

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি রুহুল কুদ্দুস বলেন, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী ঘটনায় জড়িত দুই পক্ষই মোহাম্মদপুরের রায়ের বাজার এলাকার। পূর্ববিরোধের জেরে তারা কেরানীগঞ্জের আরশিনগরে এসে এই হামলা চালিয়েছে।

জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে বলে জানান তিনি।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান জানান, ফরহাদের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

সূত্র: ইত্তেফাক