চিফ প্রসিকিউটর ওবায়দুল কাদের

জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির খোঁজ পেলে তাদের গ্রেফতার করে দেশে আনার ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো: আমিনুল ইসলাম।

মঙ্গলবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি জানান, আসামিরা এখন দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ায় তাদের অবস্থান শনাক্ত করা গেলে গ্রেফতার করে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ চিফ প্রসিকিউটরের

আমিনুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয়া হয়েছে এবং এই রায়ে তিনি সন্তুষ্ট।

সম্পদের অর্ধেক বাজেয়াপ্তের নির্দেশ

সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার প্রসঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আজকের রায় অনুযায়ী সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেয়া এবং জুলাই ফাউন্ডেশনের বিধিবদ্ধ সংস্থার মাধ্যমে তা বিক্রি করে জুলাইয়ে নিহত ও আহতদের পরিবারের মাঝে বণ্টনের ক্ষেত্রে আর কোনো সমস্যা হবে না।

তিনি জানান, এই রায় বাস্তবায়ন করবে সরকার, আসামিদের সম্পদের খোঁজ নিয়ে তার অর্ধেক বাজেয়াপ্ত করা হবে।

তিনি আরও জানান, রায় প্রকাশের পর ৩০ দিন পর্যন্ত আপিলের সময়সীমা থাকবে, এই সময়ের মধ্যে সম্পদ বাজেয়াপ্তের সুযোগ নেই। তবে ৩০ দিন পার হলে রায় বাস্তবায়নে আর কোনো আইনগত বাধা থাকবে না।

আরো পড়ুন- ওবায়দুল কাদের সহ সাতজনের মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা

কাদের কাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর রায়ে আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ ও মাইনুল হোসেন খান নিখিলের সব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক (৫০ শতাংশ) বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এই সম্পত্তি বিক্রি করে পাওয়া অর্থ থেকে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে নিহত ও আহতদের পরিবারকে জুলাই ফাউন্ডেশন বা অন্য কোনো বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশও দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।

প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা

এই মামলায় ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশন পক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মো: আমিনুল ইসলামসহ অন্য প্রসিকিউটররা। অন্যদিকে পলাতক আসামি ওবায়দুল কাদের, নাছিম ও আরাফাতের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এম হাসান ইমাম, আর ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ইশরাত জাহান।

হাসিনার রায়ের পর দ্বিতীয় বড় সিদ্ধান্ত

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর প্রথম রায় দিয়েছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

সূত্র: বাসস