ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চাইলে
ছবি: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী

বছরের পর বছর তীব্র নির্যাতন ও নিপীড়ন সহ্য করেও দেশের মাটি ছেড়ে যাননি জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, কোনো দলীয় স্বার্থে নয়, বরং পুরো জাতির অধিকার রক্ষায় রাজপথে নেমেছে ১১ দলীয় ঐক্য।

শনিবার বিকেলে ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের ধারাবাহিকতায় ফেনীতে অনুষ্ঠিত এক বিশাল পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পুরাতন স্বৈরাচারী ব্যবস্থার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা প্রকাশ করে জামায়াত আমীর সতর্ক করে দিয়ে বলেন, দেশে আবারো পুরোনো ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চাইলে
ছবি: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী

তবে মনে রাখা দরকার, নতুন করে কেউ যদি আবার ফ্যাসিবাদ কায়েম করার অপচেষ্টা করে, তবে তাদের মসনদ থেকে সরাতে এবার আর ১৫ বছর সময় লাগবে না। অতীতে কার কী ভূমিকা ছিল তা দেশবাসীর অজানা নয়।

সব ক্ষেত্রে নির্লজ্জ দলীয়করণ করা হলে বিরোধী দল নিশ্চুপ থাকবে না; যেখানেই অন্যায়-অবিচার ঘটবে, সেখানেই রাজপথ থেকে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

উক্ত পথসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু মন্তব্য করেন, এই লংমার্চের মধ্য দিয়ে মূলত ১১ দলীয় ঐক্যের মূল আন্দোলনের শুভসূচনা হলো। চট্টগ্রাম দিয়ে শুরু হলেও এই লড়াই সামনে ঢাকা ঘেরাও কর্মসূচির মাধ্যমে চূড়ান্ত রূপ নেবে।

ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চাইলে
ছবি: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী

লংমার্চ থেকে উত্থাপিত ১১ দলীয় ঐক্যের সুনির্দিষ্ট ৬ দফা দাবি:

  • গণভোটের রায় অনতিবিলম্বে বাস্তবায়ন করা।
  • জুলাই গণহত্যার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা।
  • বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সারের তীব্র সংকট নিরসন করা।
  • নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম কমানো সহ সব ধরনের চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ করা।
  • দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি ঘটানো।
  • সরকারি প্রশাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রে দলীয়করণ বন্ধ করা।

একই সমাবেশে সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি অভিযোগ করে বলেন,

বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর জনগণকে দেওয়া কোনো অঙ্গীকারই রাখতে পারেনি। সংসদে তাদের একচ্ছত্র আধিপত্য ও স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাব স্পষ্ট।

তিনি রাজপথ থেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আন্দোলন চলাকালে ১১ দলের কোনো নেতা-কর্মীর ওপর আক্রমণ হলে প্রতিটা হামলার কড়া ও ঐক্যবদ্ধ জবাব দেওয়া হবে।

একইসঙ্গে সরকারের প্রতি বার্তা দিয়ে তিনি জানান, আন্দোলন সামলাতে বিরোধী দলের সহায়তা পেতে হলে তাদের তোলা ৬ দফা দাবি পুরোপুরি মেনে নিতে হবে।