রাজধানীর মোহাম্মদপুরে চারদিন আগে কাজে আসা এক কথিত গৃহকর্মীর হাতেই নৃশংসভাবে খুন হয়েছেন মা ও মেয়ে।
মোহাম্মদপুরে হত্যাকাণ্ডের পর ওই গৃহকর্মী বাসা থেকে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় নিহতদের স্বামী ও বাবা আ জ ম আজিজুল ইসলাম বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেছেন।
গতকাল সোমবার রাতে দায়ের করা হত্যা মামলায় মোছা. আয়েশা (২০) নামের ওই গৃহকর্মীকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে। তবে মামলার এজাহারে তার বাবার নাম ও ঠিকানায় ‘অজ্ঞাত’ লেখা হয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ নিশ্চিত করেছে, আয়েশা নামে পরিচয় দেওয়া ওই তরুণীর প্রকৃত পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি।
ঘাতক সেজেছিল খণ্ডকালীন গৃহকর্মী
নিহতরা হলেন স্ত্রী লায়লা আফরোজ (৪৮) ও মেয়ে নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিজ (১৫)। বাদী আ জ ম আজিজুল ইসলাম পেশায় একজন শিক্ষক। তিনি এজাহারে উল্লেখ করেছেন, খুনের ঘটনাটি গতকাল সকাল ৭টা ৫১ মিনিট থেকে ৯টা ৩৫ মিনিটের মধ্যে যেকোনো সময় ঘটেছে।
আজিজুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডের চার দিন আগে উল্লিখিত আসামি তার বাসায় খণ্ডকালীন গৃহকর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন। গতকাল সকাল ৭টার দিকে তিনি তার কর্মস্থল উত্তরায় চলে যান। এরপর একাধিকবার স্ত্রীর মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। বেলা ১১টায় বাসায় ফিরে তিনি দেখেন, স্ত্রী লায়লা আফরোজের গলাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় কাটা এবং তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মৃত পড়ে আছেন। মেয়ে নাফিসা লাওয়াল গলার নিচে ডান পাশে কাটা গুরুতর জখম নিয়ে বাসার প্রধান ফটকে পড়ে আছে। দ্রুত তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
সিসিটিভি ফুটেজে খুনিকে শনাক্ত, লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার হয়নি
মামলার বাদী আজিজুল ইসলাম তার বাসভবনের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করেন। ফুটেজে তিনি দেখতে পান, আসামি আয়েশা সকাল ৭টা ৫১ মিনিটের সময় কাজ করার জন্য বাসায় আসেন। এরপর সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটের সময় আসামি তার মেয়ের স্কুলড্রেস পরে বাসা থেকে পালিয়ে যান।
মোহাম্মদপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রকিবুজ্জামান তালুকদার আজ মঙ্গলবার দুপুরে আজকের পত্রিকাকে মামলার এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এজাহার অনুযায়ী, পালিয়ে যাওয়ার সময় কথিত গৃহকর্মী আয়েশা একটি মোবাইল ফোন, একটি ল্যাপটপ, বেশ কিছু স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থসহ অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়।
মামলার বাদী সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছেন যে, অজ্ঞাত কারণে আসামি তার স্ত্রী ও মেয়েকে ছুরি বা অন্য কোনো ধারালো অস্ত্র দিয়ে গুরুতর জখম করে হত্যা করেছেন।
পুলিশের বক্তব্য: গৃহকর্মীর পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে
মোহাম্মদপুর থানা-পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের একমাত্র আসামি কথিত গৃহকর্মী ‘আয়েশা’র পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি। তাকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি তার প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করতে জোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে।







