Home অপরাধ ২৫ বছরেও শেষ হয়নি বিচার, প্রশ্নে বিচারপ্রক্রিয়ার গতি

২৫ বছরেও শেষ হয়নি বিচার, প্রশ্নে বিচারপ্রক্রিয়ার গতি

71
0
রমনা বটমূল বোমা হামলা

রাজধানীর রমনা বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে ভয়াবহ বোমা হামলার ঘটনার ২৫ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি মামলার। ২০০১ সালের এই নৃশংস ঘটনায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলার বিচার নিম্ন আদালত ও হাইকোর্টে শেষ হলেও বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের মামলা এখনো বিচারাধীন রয়েছে।

২০০১ সালের হামলা: নিহত ১০, আহত বহু

২০০১ সালের পহেলা বৈশাখে রমনা বটমূলে সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানটের আয়োজিত অনুষ্ঠানে জঙ্গিদের বোমা হামলায় প্রাণ হারান ১০ জন। আহত হন বহু মানুষ। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

ঘটনার দিনই পুলিশ বাদী হয়ে রমনা থানায় দুটি মামলা করে—একটি হত্যা মামলা এবং অন্যটি বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে।

অভিযোগপত্র ও বিচারিক কার্যক্রম

ঘটনার প্রায় আট বছর পর, ২০০৮ সালের ৩০ নভেম্বর পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের (হুজি) শীর্ষ নেতা মুফতি আব্দুল হান্নানসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে দুটি পৃথক অভিযোগপত্র জমা দেয়।

২০১৪ সালের ২৩ জুন ঢাকার দায়রা জজ আদালত হত্যা মামলার রায়ে—

  • ৮ জনকে মৃত্যুদণ্ড
  • ৬ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

হাইকোর্টের রায় ও বর্তমান অবস্থা

পরবর্তীতে ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শেষে হাইকোর্ট গত বছরের ১৩ মে রায় দেন। রায়ে—

  • ২ জনকে যাবজ্জীবন
  • ৯ জনকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়

মুফতি হান্নান অন্য মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় তাঁর আপিল পরিসমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। এছাড়া দুই আসামি মৃত্যুবরণ করায় তাদের আপিলও নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

বর্তমানে কয়েকজন আসামি পলাতক এবং কিছু আসামি সাজাভোগ শেষে মুক্তি পেয়েছেন।

পূর্ণাঙ্গ রায়ের অপেক্ষা, আপিলের প্রস্তুতি

হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় এখনো প্রকাশিত হয়নি। রায় প্রকাশিত হলে আপিল বিভাগের কাছে আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির জানান, পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর দ্রুত আপিল করা হবে এবং তখনই মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির পথ তৈরি হবে।

বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের মামলা এখনো ঝুলে

হত্যা মামলার বিচার শেষ হলেও বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে করা মামলাটি এখনো নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

২০১৪ সালে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। ২০২২ সালে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলেও পরবর্তীতে মামলাটি ঢাকার মহানগর ১৫ নম্বর বিশেষ ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়।

বর্তমানে মামলাটি একই অবস্থায় রয়েছে।

দ্রুত নিষ্পত্তির আশা

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানিয়েছেন, বিভিন্ন সময় আসামিদের আবেদনের কারণে বিচারকাজ স্থগিত ছিল। বর্তমানে কোনো স্থগিতাদেশ না থাকায় আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে মামলার নিষ্পত্তি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।