বাংলা নতুন বছরের প্রথম প্রহরেই রাজধানীজুড়ে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে রাস্তায় নেমে আসেন হাজারো নগরবাসী। বৈশাখী শাড়ি ও পাঞ্জাবিতে সজ্জিত তরুণ-তরুণীদের উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
ঐতিহ্যবাহী রমনার বটমূলে প্রভাতি আয়োজন শেষে মঙ্গলবার সকাল ৯টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় দিনব্যাপী উদযাপন।
🎭 চারুকলা শোভাযাত্রায় ঐক্য ও সংস্কৃতির বার্তা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে শুরু হওয়া বৈশাখী শোভাযাত্রা এবছর নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এবারের প্রতিপাদ্য—‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’—সমাজে সম্প্রীতি ও ঐক্যের বার্তা বহন করে।
শোভাযাত্রায় স্থান পায় বাংলার ঐতিহ্যবাহী পাঁচটি প্রধান মোটিফ:
- 🐓 লাল ঝুঁটির মোরগ
- 🐘 কাঠের হাতি
- 🕊️ পায়রা
- 🎸 দোতারা
- 🐎 টেপা পুতুলের ঘোড়া
এই প্রতীকগুলোর মাধ্যমে তুলে ধরা হয় গ্রামীণ জীবন, শান্তি ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য।

🖼️ পটচিত্রে ইতিহাস ও লোকজ ঐতিহ্যের ছোঁয়া
এবারের শোভাযাত্রায় বিশেষ আকর্ষণ ছিল ১৫০ ফুট দৈর্ঘ্যের পাঁচটি পটচিত্র। এগুলোর বিষয়বস্তু ছিল—
- বাংলাদেশ
- গাজীরপট
- সম্রাট আকবর
- বনবিবি
- বেহুলা
এছাড়াও বিভিন্ন জাতিসত্তার শিল্পীরা অংশ নিয়ে নিজেদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য উপস্থাপন করেন, যা উৎসবকে আরও বহুমাত্রিক করে তোলে।
🚶♂️ শোভাযাত্রার রুট ও অংশগ্রহণকারীরা
শোভাযাত্রার শুরুতে ছিল পুলিশের সজ্জিত ঘোড়সওয়ার দল। এরপর জাতীয় পতাকা হাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা, সংস্কৃতি মন্ত্রী, শিক্ষকবৃন্দ ও আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশ নেন।
শোভাযাত্রার রুট ছিল—
চারুকলা অনুষদ → শাহবাগ থানা → রাজু ভাস্কর্য → দোয়েল চত্বর → বাংলা একাডেমি → পুনরায় চারুকলা
এই পুরো পথজুড়ে মানুষের ঢল ছিল চোখে পড়ার মতো।
⚠️ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নির্দেশনা
উৎসব উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সব অনুষ্ঠান বিকেল ৫টার মধ্যে শেষ করতে হবে।
বিকেল ৫টার পর নতুন করে প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে, তবে দর্শনার্থীরা ক্যাম্পাস থেকে বের হতে পারবেন।







