শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞ মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
ছবি : সংগৃহীত

২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছে আদালত।

মামলায় পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ ও সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একই সাথে শেখ হাসিনাসহ মামলার সকল পলাতক আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

আজ সোমবার (২৭ জুলাই ২০২৬) দুপুরে প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন ৩ সদস্যের বিচারক বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

৫৮ জন নিহতের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দাখিল

ট্রাইব্যুনালে শুনানিকালে চিফ প্রসিকিউটর জানান, ২০১৩ সালের ৫ মে দিনভর ও গভীর রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সেই তাণ্ডব ও হামলায় মোট ৫৮ জন নিহতের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত সংস্থা। নিহতদের মধ্যে ঢাকায় ৩২ জন, নারায়ণগঞ্জে ২০ জন, চট্টগ্রামে ৫ জন এবং কুমিল্লায় ১ জনের পরিচয় ও তথ্য প্রমাণ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হয়েছে।

গত ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। দীর্ঘ তদন্ত শেষে প্রসিকিউশন আজ ফরমাল চার্জ দাখিল করে।

বর্তমানে গ্রেপ্তার আছেন যারা

এই মামলায় ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন ৯ জন হেভিওয়েট আসামি। তারা হলেন:

  • ডা. দীপু মনি (সাবেক মন্ত্রী)
  • অ্যাডভোকেট মো. শামসুল হক টুকু (সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী)
  • মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান (সাবেক এনটিএমসি প্রধান)
  • এ কে এম শহীদুল হক (সাবেক আইজিপি)
  • মোল্যা নজরুল ইসলাম (সাবেক ডিআইজি)
  • শাহরিয়ার কবির (একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা)
  • মো. আবদুল জলিল মন্ডল (সাবেক ডিআইজি)
  • ফারজানা রূপা (সাংবাদিক)
  • মোজাম্মেল হক বাবু (ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ৭১ টিভি)
শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞ মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

অভিযুক্ত ৪১ আসামির তালিকা

পলাতক ও গ্রেপ্তার মিলিয়ে মোট ৪১ জন প্রভাবশালী রাজনীতিক, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিকে এই মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় আসামি করা হয়েছে:

রাজনীতিবিদ ও মন্ত্রী: শেখ হাসিনা, ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর, অ্যাডভোকেট মো. শামসুল হক টুকু, হাসানুল হক ইনু, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ড. আব্দুর রাজ্জাক, মো. মাহবুবউল আলম হানিফ, ড. হাছান মাহমুদ, আ.ফ.ম. বাহাউদ্দিন নাছিম, আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, জাহাঙ্গীর কবির নানক, ডা. দীপু মনি, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, ওমর ফারুক চৌধুরী, সালাউদ্দিন মাহমুদ এবং এস এম জাহিদ।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সামরিক কর্মকর্তা: জেনারেল আজিজ আহমেদ (সাবেক সেনাপ্রধান ও তৎকালীন বিজিবি ডিজি), বেনজীর আহমেদ (সাবেক আইজিপি ও তৎকালীন ডিএমপি কমিশনার), জিয়াউল আহসান (সাবেক ডিজি, এনটিএমসি), লে. জেনারেল মো. মজিবুর রহমান (তৎকালীন এডিজি, র‍্যাব), হাসান মাহমুদ খন্দকার (সাবেক আইজিপি), এ কে এম শহীদুল হক, ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, মো. মোখলেছুর রহমান (তৎকালীন ডিজি, র‍্যাব), মোহা. আব্দুল জলিল মন্ডল, শেখ মুহাম্মদ মারুফ হাসান, মাহবুব হোসেন, মো. মনিরুল ইসলাম, মো. আনোয়ার হোসেন, মহা. আশরাফুজ্জামান, এস এম মেহেদী হাসান, মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সৈয়দ নুরুল ইসলাম, মো. আসাদুজ্জামান, এস এম শিবলী নোমান এবং বি এম ফরমান আলী।

অন্যান্য ব্যক্তিত্ব: ডা. ইমরান এইচ সরকার (গণজাগরণ মঞ্চ), শাহরিয়ার কবির, মোজাম্মেল হক বাবু এবং ফারজানা রূপা।

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আসামীদের আদালতে হাজির করার বিষয়ে পরবর্তী আদেশ দেবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।