বাংলাদেশের অপরাধজগতের ইতিহাসে এমন কিছু নাম রয়েছে, যেগুলো একসময় আতঙ্কের প্রতিশব্দে পরিণত হয়েছিল।
রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, জমি দখল, সশস্ত্র আধিপত্য এবং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড – এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে বারবার উঠে এসেছে কিছু সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের নাম।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব গোষ্ঠীর নেতৃত্ব বদলেছে, পরিবর্তন হয়েছে সদস্য, কিন্তু অপরাধের কাঠামো পুরোপুরি বিলীন হয়নি।
বাংলাদেশে “শীর্ষ সন্ত্রাসী” শব্দটির ব্যাপক পরিচিতি তৈরি হয় মূলত ২০০১ সালে, যখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আলোচিত ২৩ জন শীর্ষ সন্ত্রাসীর একটি তালিকা প্রকাশ করে।
সেই তালিকার অনেকেই পরে গ্রেপ্তার হন, কেউ দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান, কেউ আবার দীর্ঘদিন পলাতক থেকে বিদেশে অবস্থান করে অপরাধচক্র পরিচালনার অভিযোগে অভিযুক্ত হন।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নতুন মুখ যুক্ত হয়েছে, আবার পুরোনো অনেক নামও নতুন প্রেক্ষাপটে আলোচনায় ফিরে এসেছে।
তবে এই ইতিহাস কেবল কয়েকজন ব্যক্তির নয়। এটি নগরায়ণ, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, দুর্বল আইন প্রয়োগ, অবৈধ অর্থনীতি এবং সংঘবদ্ধ অপরাধের বিবর্তনের একটি দীর্ঘ অধ্যায়।
বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত সরকারি নথি, আদালতের কার্যক্রম, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য এবং গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দেখা যায়, অপরাধচক্রগুলো কেবল অস্ত্রের জোরে নয়; অর্থনৈতিক প্রভাব, স্থানীয় নেটওয়ার্ক এবং ভয়ের সংস্কৃতির মাধ্যমেও নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করেছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই বাস্তবতা আরও বদলেছে। এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ, আন্তর্জাতিক অর্থপাচার, বিদেশে অবস্থান করে নির্দেশনা দেওয়ার অভিযোগ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে নতুন সদস্য সংগ্রহ –
এসব কারণে সংঘবদ্ধ অপরাধের ধরন আগের তুলনায় আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
একই সঙ্গে ২০২৪-২০২৬ সময়কালে বিভিন্ন আলোচিত গ্রেপ্তার, জামিন, আদালতের কার্যক্রম এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে জনআলোচনা তৈরি হয়েছে।
এই প্রতিবেদনের উদ্দেশ্য কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে প্রচার করা নয়।
বরং প্রকাশিত তথ্য, সরকারি নথি এবং নির্ভরযোগ্য সংবাদসূত্রের আলোকে বোঝার চেষ্টা করা, কীভাবে বাংলাদেশের নগরভিত্তিক আন্ডারওয়ার্ল্ড গড়ে উঠল, কীভাবে এর অর্থনীতি বিস্তৃত হলো এবং কেন এত বছর পরও এই নেটওয়ার্কের বিভিন্ন অংশ বিভিন্ন রূপে টিকে আছে।
📊 সংখ্যায় আন্ডারওয়ার্ল্ড
২৩
আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী
৩০+
বছরের ইতিহাস
৭
বিশ্লেষণধর্মী অধ্যায়
১০+
আলোচিত প্রভাববলয়
২০২৪-২০২৬
সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ

“শীর্ষ সন্ত্রাসী” বলতে কী বোঝায়?
বাংলাদেশের আইন ও গণমাধ্যমের পরিভাষায় “শীর্ষ সন্ত্রাসী” বলতে সাধারণত এমন ব্যক্তিদের বোঝানো হয়, যাদের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ অপরাধ পরিচালনা, সশস্ত্র গ্যাং নিয়ন্ত্রণ কিংবা একাধিক গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।
এসব অভিযোগের মধ্যে থাকতে পারে:
- চাঁদাবাজি
- টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ
- জমি দখল
- অস্ত্রের ব্যবহার ও সরবরাহ
- পরিকল্পিত হত্যা
- ভাড়াটে সন্ত্রাসী পরিচালনা
- অবৈধ অর্থ আদায়
- সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র পরিচালনা
তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা জরুরি: কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকা এবং আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়া এক বিষয় নয়।
এই প্রতিবেদনে যেসব ব্যক্তির নাম এসেছে, তাদের ক্ষেত্রে তথ্য উপস্থাপনের ভিত্তি হলো প্রকাশিত সংবাদ, সরকারি নথি এবং আদালতের কার্যক্রম।
যেখানে চূড়ান্ত রায় নেই, সেখানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আইনগতভাবে দোষী হিসেবে গণ্য করা যায় না।
কেন এই প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ?
গত দুই দশকে বাংলাদেশের আন্ডারওয়ার্ল্ডের চরিত্র উল্লেখযোগ্যভাবে বদলেছে।
একসময় যে গ্যাংগুলো নির্দিষ্ট এলাকায় অস্ত্রের মহড়া দিয়ে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করত, তাদের একটি অংশের বিরুদ্ধে এখন বিদেশে অবস্থান করে যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে নেটওয়ার্ক পরিচালনার অভিযোগ ওঠে।
একই সঙ্গে কিশোর গ্যাং, সাইবার যোগাযোগ, ডিজিটাল আর্থিক লেনদেন এবং আন্তর্জাতিক সংযোগ – এসব নতুন বাস্তবতা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই পরিবর্তনগুলো বোঝা শুধু অপরাধবিজ্ঞান বা আইনশৃঙ্খলার জন্য নয়; নগর সমাজ, অর্থনীতি এবং জননিরাপত্তা বিশ্লেষণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।
ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের জন্ম – কীভাবে তৈরি হলো সংঘবদ্ধ অপরাধের রাজধানী?
বাংলাদেশের সংগঠিত অপরাধের ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ড কোনো একদিনে তৈরি হয়নি। এটি ছিল দীর্ঘ কয়েক দশকের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের ফল।
দ্রুত নগরায়ণ, প্রশাসনিক দুর্বলতা, রাজনৈতিক সংঘাত এবং বিপুল অর্থনৈতিক স্বার্থ – এই চারটি উপাদান ধীরে ধীরে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করে, যেখানে সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র শক্ত ভিত্তি গড়ে তুলতে সক্ষম হয়।
অপরাধবিজ্ঞানীরা প্রায়ই বলেন, যেখানে অর্থ, ক্ষমতা এবং দুর্বল নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা একসঙ্গে উপস্থিত থাকে, সেখানে সংগঠিত অপরাধের বিকাশের সম্ভাবনাও বেড়ে যায়। ঢাকার ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি।
📖 “শীর্ষ সন্ত্রাসীর অর্থ”
আন্ডারওয়ার্ল্ড সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের নেটওয়ার্ক
চাঁদাবাজি ভয়ভীতি বা অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে অর্থ আদায়
টেন্ডারবাজি দরপত্র প্রক্রিয়ায় অবৈধ হস্তক্ষেপ
অর্থপাচার অবৈধ অর্থ বৈধ উৎসের মতো দেখানোর প্রক্রিয়া
স্বাধীনতার পর থেকে নব্বইয়ের দশক: পরিবর্তিত রাজধানী
স্বাধীনতার পর রাজধানী ঢাকায় মানুষের চাপ দ্রুত বাড়তে থাকে। কর্মসংস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং উন্নত জীবিকার আশায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মানুষ ঢাকায় আসতে শুরু করে। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই শহরের জনসংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যায়।
এই সময়ে গড়ে ওঠে নতুন নতুন বস্তি, অনিয়ন্ত্রিত আবাসন এবং অনানুষ্ঠানিক ব্যবসা। একই সঙ্গে জমির দাম বাড়তে থাকে, পরিবহন খাত বিস্তৃত হয় এবং সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের সংখ্যাও বৃদ্ধি পায়।
যেখানে বিপুল অর্থের প্রবাহ থাকে, সেখানে অবৈধ স্বার্থও তৈরি হয়। জমি দখল, বাজার নিয়ন্ত্রণ, পরিবহন থেকে চাঁদা আদায় এবং ঠিকাদারি কাজের প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রভাবশালী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ বাড়তে থাকে।
নব্বইয়ের দশক: গ্যাং সংস্কৃতির উত্থান
নব্বইয়ের দশককে অনেক অপরাধবিশ্লেষক ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের “গঠনের সময়” হিসেবে উল্লেখ করেন।
এই সময় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ছোট ছোট সশস্ত্র গ্রুপ তৈরি হতে শুরু করে।
প্রথম দিকে তারা নির্দিষ্ট এলাকা নিয়ন্ত্রণ, স্থানীয় ব্যবসা এবং আধিপত্য বিস্তারের জন্য সংঘর্ষে জড়ালেও পরে এসব গোষ্ঠীর অনেকেই সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রে রূপ নেয়।
বিশেষ করে:
- পুরান ঢাকা
- মতিঝিল
- গোপীবাগ
- মগবাজার
- মালিবাগ
- রামপুরা
- মোহাম্মদপুর
- মিরপুর
- কাফরুল
- তেজগাঁও
এসব এলাকায় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে একাধিক গোষ্ঠীর সক্রিয়তা নিয়ে সে সময় সংবাদমাধ্যমে নিয়মিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হতো।
স্থানীয়ভাবে পরিচিত “স্টার” গ্যাংগুলোর নামও তখন আলোচনায় আসে।
বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত সংবাদে “ফাইভ স্টার” এবং “সেভেন স্টার” নামে পরিচিত অপরাধচক্রের উল্লেখ পাওয়া যায়।
তবে এসব গোষ্ঠীর কাঠামো, সদস্যসংখ্যা বা কার্যক্রম সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়েছে।
অপরাধের ধরন কেন বদলে গেল?
প্রথম দিকে সংঘর্ষের মূল কারণ ছিল এলাকা দখল। কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যেই অপরাধের অর্থনীতি বদলে যায়।
১. টেন্ডার অর্থনীতি
সরকারি অবকাঠামো প্রকল্প বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঠিকাদারি কাজের ওপর প্রভাব বিস্তার লাভজনক হয়ে ওঠে।
বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত তদন্ত প্রতিবেদন ও সংবাদে দেখা যায়, কিছু এলাকায় ঠিকাদারদের কাছ থেকে চাঁদা দাবি, দরপত্রে প্রভাব বিস্তার এবং প্রতিদ্বন্দ্বীদের ভয় দেখানোর অভিযোগ উঠেছিল।

২. জমির বাজার
ঢাকায় জমির মূল্য অস্বাভাবিক হারে বাড়তে শুরু করলে জমি নিয়ে বিরোধও বাড়ে।
ভূমি দখল, মালিকানা নিয়ে বিরোধ এবং রিয়েল এস্টেট প্রকল্পকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র সক্রিয় হয়ে ওঠার অভিযোগ বহু বছর ধরে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
৩. ঝুট ব্যবসা
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের দ্রুত সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে গার্মেন্টস কারখানার ঝুট বা বর্জ্যও একটি বড় অর্থনৈতিক খাতে পরিণত হয়।
এই খাতকে কেন্দ্র করেও আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি এবং সংঘর্ষের ঘটনা বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছে।
৪. পরিবহন খাত
বাস টার্মিনাল, ট্রাক স্ট্যান্ড, পণ্য পরিবহন এবং স্থানীয় পরিবহন রুট দীর্ঘদিন ধরেই সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের অর্থ সংগ্রহের অন্যতম ক্ষেত্র হিসেবে বিভিন্ন গবেষণা ও সংবাদ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
রাজনীতি ও অপরাধ: সম্পর্ক কতটা জটিল?
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ উঠেছে যে, কিছু অপরাধচক্র স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব বা ক্ষমতার দ্বন্দ্বকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেছে।
তবে এই সম্পর্ককে একরৈখিকভাবে ব্যাখ্যা করা যায় না।
বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সরকার অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযানও পরিচালনা করেছে, আবার রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ের অভিযোগও উঠেছে।
অপরাধবিজ্ঞানীরা মনে করেন, যখন কোনো সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র অর্থ, স্থানীয় প্রভাব এবং রাজনৈতিক যোগাযোগ: এই তিনটি উপাদান একসঙ্গে অর্জন করে, তখন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া তুলনামূলক কঠিন হয়ে পড়ে।
কেন ২০০১ সাল ছিল একটি মোড় পরিবর্তনের বছর?
২০০১ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশের আলোচিত ২৩ জন শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকা প্রকাশ করে।
এটি ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবার, যখন সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে সরকার প্রকাশ্যে একটি কেন্দ্রীয় তালিকা প্রকাশ করে।
তালিকা প্রকাশের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান জোরদার করে। পরবর্তী বছরগুলোতে:
- অনেকেই গ্রেপ্তার হন,
- কেউ বিদেশে পালিয়ে যান,
- কারও বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের সহায়তা চাওয়া হয়,
- আবার কেউ আদালতে বিচারাধীন অবস্থায় দীর্ঘ সময় কারাগারে ছিলেন।
তবে তালিকা প্রকাশের পরও সংঘবদ্ধ অপরাধ পুরোপুরি নির্মূল হয়নি। বরং অপরাধচক্রের একটি অংশ নতুন কৌশল গ্রহণ করে।
আন্ডারওয়ার্ল্ডের নতুন কৌশল
২০০৫ সালের পর থেকে সংঘবদ্ধ অপরাধের ধরনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়।
অস্ত্র হাতে প্রকাশ্যে ঘোরার পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগ ওঠে যে, কিছু অপরাধী বিদেশে অবস্থান করে মোবাইল ফোন, ইন্টারনেটভিত্তিক যোগাযোগ এবং স্থানীয় সহযোগীদের মাধ্যমে নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতে থাকে।
এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য তদন্ত আরও জটিল হয়ে ওঠে। কারণ অপরাধের পরিকল্পনা, অর্থ লেনদেন এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তবায়ন: তিনটি ধাপই ভিন্ন ভিন্ন স্থানে পরিচালিত হতে শুরু করে।
একটি পরিবর্তিত বাস্তবতা
নব্বইয়ের দশকের আন্ডারওয়ার্ল্ড ছিল দৃশ্যমান।
২০২৬ সালের আন্ডারওয়ার্ল্ড অনেকটাই অদৃশ্য।
আগে যেখানে অস্ত্র হাতে প্রকাশ্যে মহড়া ছিল শক্তির প্রদর্শন,
এখন অভিযোগ অনুযায়ী অনেক ক্ষেত্রে সেই জায়গা নিয়েছে এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপ, প্রক্সি সদস্য, ডিজিটাল আর্থিক লেনদেন এবং আন্তসীমান্ত যোগাযোগ।
এই পরিবর্তন শুধু অপরাধের ধরনই বদলায়নি; বদলে দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তের পদ্ধতিও।
এই প্রতিবেদনটি ৫ পর্বের একটি সিরিজের অংশ।
পরের পর্বে থাকছে: ২০০১ সালের ২৩ জন শীর্ষ সন্ত্রাসীর সম্পূর্ণ তালিকা, প্রত্যেকের পরিচিতি এবং পুরস্কার ঘোষণার বিস্তারিত।
সূত্র-
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ + প্রথম আলো, ইত্তেফাক, সমকাল, ডেইলি স্টার
লেখক: মোহাম্মদ মহসীন, সম্পাদক ও প্রকাশক, ENEWSUP.COM











