উত্তরখানে মিরাজ হত্যা

রাজধানীর উত্তরখানের রহমাননগর এলাকায় একটি বাসায় ইয়াবার পার্টিতে ডেকে নিয়ে মিরাজ খান নামের এক যুবককে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার হওয়া তিন আসামিকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।

সোমবার রিমান্ড শুনানি শেষে আসামি সাইদুল ইসলাম ঝলক, আজগর ও মূল অভিযুক্ত মুরাদের স্ত্রী সুমিকে উত্তরখান থানায় নিয়ে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নিহত মিরাজ এবং অভিযুক্তরা একে অপরের পূর্বপরিচিত।

আরো জানুন- ঘরে ঢুকে মা ও ৩ মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা

শনিবার সারারাত রহমাননগরের ওই বাসায় তারা একসঙ্গে ইয়াবা সেবন করেন।

ভোর রাতের দিকে মাদক কারবার কিংবা পূর্বশত্রুতার জেরে মিরাজকে বুকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

ঘটনাস্থল থেকে ইয়াবা সেবনের ফুয়েল পেপারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে পুলিশ।

যেভাবে ঘটে ঘটনা

মামলার সূত্রে জানা যায়, রোববার সকাল ১০টার দিকে খবর পেয়ে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল থেকে মিরাজের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ সময় ঘটনাস্থল থেকে সন্দেহভাজন হিসেবে সাইদুল ইসলাম ঝলক ও আজগরকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে পালিয়ে যাওয়া প্রধান অভিযুক্ত মুরাদের স্ত্রী সুমিকে আটক করে পুলিশ।

এ ঘটনায় নিহত মিরাজের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের পর পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে সোমবার আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিক ধারণায় মিরাজকে তুলে নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হলেও অনুসন্ধানে তা সত্য প্রমাণিত হয়নি।

ধারণা করা হচ্ছে, মিরাজ স্বেচ্ছায় পরিচিতদের সঙ্গে মুরাদের ফাঁকা বাসায় গিয়েছিলেন। সেখানে মিরাজসহ মোট ৯ জন অবস্থান করছিলেন।

কারা ছিল সেই রাতের পার্টিতে?

পুলিশ জানায়, সেই রাতের আড্ডায় অভিযুক্ত মুরাদ, সাইদুল ইসলাম ঝলক, আজগর, তাইজুল ইসলাম বাবু ও নাহিদসহ আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।

মুরাদের বাসার একটি ঘরের সংস্কার কাজ চলায় ঘরটি ফাঁকা ছিল।

সেখানে সারারাত ইয়াবা সেবনের পর রোববার ভোর ৬টার দিকে মিরাজকে গুলি করা হয়। এ সময় মুরাদের স্ত্রী পাশের ঘরে অবস্থান করছিলেন।

গ্রেপ্তারকৃত সাইদুল পুলিশকে জানান, তাইজুল ইসলাম বাবু মিরাজকে সরাসরি গুলি করেন।

হত্যাকাণ্ডের পরপরই বাবু ও নাহিদ মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যান।

পরবর্তীতে সাইদুল ও আজগর অটোরিকশায় করে গুলিবিদ্ধ মিরাজকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের পরিচয় ও সন্দেহ

পটুয়াখালীর গলাচিপার সন্তান মিরাজ দক্ষিণখানের আইনুছবাগ এলাকায় একাকী বসবাস করতেন। তিনি একসময় মোবাইল যন্ত্রাংশের ব্যবসা করলেও সাম্প্রতিক সময়ে নিজের মোটরসাইকেলের সামনে ‘প্রেস’ লেখা স্টিকার লাগিয়ে চলাফেরা করতেন বলে জানা গেছে।

উত্তরখান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনায় যাদের নাম উঠে এসেছে তাদের নির্দিষ্ট কোনো পেশা নেই এবং কারও কারও বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।

মাদকের অর্থ ভাগাভাগি বা আধিপত্য বিস্তার সংক্রান্ত কোনো বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে কি না, তা রিমান্ডে গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সূত্র: সমকাল