রিকশাচালক হত্যা
ছবি: ইত্তেফাক

রংপুরের বদরগঞ্জে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় রিকশাচালক আরিফুল ইসলাম (২৮) নিহতের ঘটনায় তিন ছাত্রদল নেতাকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

বহিষ্কৃত নেতাকর্মীদের পরিচয় ও অভিযোগ

সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে যাদের বহিষ্কার করা হয়েছে তারা হলেন:

  • ফিরোজ শাহ: রংপুর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক (গ্যাং লিডার হিসেবে পরিচিত)।
  • গোপাল ব্যানার্জি: বদরগঞ্জ পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব।
  • মুজাহিদুল ইসলাম সম্রাট: বদরগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক।

এর আগে ১১ মে স্থানীয় জেলা ছাত্রদল গোপাল ব্যানার্জি ও মুজাহিদুল ইসলাম সম্রাটকে বহিষ্কার করেছিল। এদের মধ্যে গোপাল ব্যানার্জিকে গত ১২ মে নওগাঁ থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট ও ঘটনাপ্রবাহ

গত ৫ মে রংপুর আদালতে একটি মামলায় হাজিরা দিতে গিয়ে ‘মার্ডার ফিরোজ’ গ্যাং এবং মমিনুল গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এরপর বিকেলে বদরগঞ্জে দুই পক্ষ একে অপরকে খুঁজতে থাকে:

  • ভুল পরিচয়ে হামলা: বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রাজমিস্ত্রির কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন রিকশাচালক আরিফুল।
  • বর্বর হত্যাকাণ্ড: আম্বিয়ার মোড়ে তাকে থামিয়ে বাড়ি কোথায় জানতে চাওয়া হয়। তিনি ‘পাঠানপাড়া’ গ্রাম বলতেই মমিনুল গ্রুপের সদস্য মনে করে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও মারধর করে জখম করা হয়।
  • মৃত্যু: হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আইনি পদক্ষেপ ও আসামিদের অপরাধের রেকর্ড

নিহতের বাবা রেজাউল ইসলাম বাদী হয়ে বদরগঞ্জ থানায় ২১ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন। আসামিদের অতীত অপরাধের খতিয়ান শিউরে ওঠার মতো:

  • ফিরোজ শাহ (মার্ডার ফিরোজ): তার বিরুদ্ধে ৩টি হত্যাসহ মোট ১১টি মামলা রয়েছে।
  • গোপাল ব্যানার্জি: ৩টি হত্যা মামলার আসামি।
  • মুজাহিদুল ইসলাম সম্রাট: ৪টি হত্যা মামলার আসামি।

বদরগঞ্জ থানার ওসি হাসান জাহিদ সরকার জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত মোট ৪ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।