বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল চাইলে দেশের পরিবেশ ও সমাজ উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বাইরে গিয়ে জনকল্যাণ ও সামাজিক পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে ছাত্রদল নিম্নলিখিত ছয়টি উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব।
১. বনায়ন কর্মসূচি
বর্তমানে দেশে বনাঞ্চল রয়েছে মাত্র ১৩ শতাংশ, যেখানে প্রয়োজন অন্তত ২৫ শতাংশ। এই ঘাটতি পূরণের জন্য ছাত্রদলের প্রতিটি ওয়ার্ড, থানা ও মহানগর কমিটির অংশগ্রহণে ৭ দিনের একটি “ঘাটতি পূরণে বনায়ন” প্রকল্প গ্রহণ করা যেতে পারে।
২. খাল উদ্ধার উদ্যোগ
দেশে প্রায় ৪০০০–৫০০০ খাল রয়েছে, যার অধিকাংশই দখল বা অব্যবস্থাপনায় বন্ধ হয়ে আছে। ছাত্রদল চাইলে খাল উদ্ধার, খনন ও পুনঃচালুর উদ্যোগ নিতে পারে। খালে মাছ ছাড়া ও সৌন্দর্যবর্ধনের দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে স্থানীয় নেতাদের ওপর। এ কাজে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও মৎস্য উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা নেওয়া যেতে পারে।
৩. খেলার মাঠ পুনরুদ্ধার
দেশব্যাপী প্রতিটি থানায় ছাত্রদল স্থানীয় কমিটির মাধ্যমে একটি মাঠকে খেলার উপযোগী করে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করতে পারে। মাঠ ব্যবস্থাপনায় রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে স্থানীয় ক্রীড়াবিদ বা অরাজনৈতিক ব্যক্তিদের নেতৃত্বে এটি পরিচালনা করা যেতে পারে।
৪. লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড রুম
প্রতিটি থানায় একটি করে “লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড রুম” চালু করা যেতে পারে। যেখানে হারানো যেকোনো মূল্যবান জিনিস জমা রেখে প্রকৃত মালিক প্রমাণসাপেক্ষে তা ফেরত নিতে পারবেন। দায়িত্বে থাকবেন স্থানীয় মসজিদের খাদেম বা মুয়াজ্জিন।
৫. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা উদ্যোগ
রাস্তার দেয়ালজুড়ে লাগানো পোস্টার, বিজ্ঞাপন ও দেয়ালিকা পরিষ্কার করে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব। প্রয়োজনে নির্দিষ্ট স্থানে বিজ্ঞপ্তি বোর্ড স্থাপন করা যেতে পারে।
৬. মাদক ও ইভটিজিং প্রতিরোধ
মাদক সেবন ও ইভটিজিংয়ের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে সেখানে আলোর ব্যবস্থা ও নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা করতে পারে ছাত্রদল। নিয়মিত পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব নিতে পারে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল যদি এসব উদ্যোগ হাতে নেয়, তবে জনকল্যাণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে। কারণ, রাজনীতি কেবল ক্ষমতার জন্য নয়—মানুষের কল্যাণ ও সমাজের উন্নয়নের জন্যও হতে পারে।
— রিজভী মাহমুদ











0.5
Comments are closed.