কারিনা কায়সার

জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সারের অকাল মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ মিডিয়া অঙ্গন ও ক্রীড়াকুল। লিভার ও ফুসফুসের জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

কন্যার আকস্মিক বিদায়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশবাসীর কাছে আবেগঘন এক বার্তায় ক্ষমা ও দোয়া চেয়েছেন তার বাবা, জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক তারকা খেলোয়াড় কায়সার হামিদ

ফেসবুকে বাবার আবেগঘন পোস্ট

শুক্রবার (১৫ মে ২০২৬) মেয়ের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে কায়সার হামিদ তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লেখেন:

“আমার প্রাণপ্রিয় আদরের মেয়ে কারিনা একটু আগে চেন্নাইতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমাদের ছেড়ে ওপারে চলে গেছে। আমার মেয়ের কোনো ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে কিংবা কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকলে আপনারা তাকে ক্ষমা করে দেবেন। যারা এই দুঃসময়ে আমাদের পাশে ছিলেন, দোয়া করেছেন, সহযোগিতা করেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।”

অসুস্থতা ও চিকিৎসার শেষ মুহূর্ত

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সাধারণ জ্বর দিয়ে শুরু হলেও পরবর্তীতে কারিনার শরীরে মারাত্মক সংক্রমণ ধরা পড়ে। তিনি ‘হেপাটাইটিস এ’ ও ‘ই’-তে আক্রান্ত হন। আগে থেকেই ‘ফ্যাটি লিভার’-এর সমস্যা থাকায় পরিস্থিতি দ্রুত জটিল আকার ধারণ করে।

ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রাখার পর গত সোমবার রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে চেন্নাইয়ে নেওয়া হয়েছিল।

চিকিৎসার শেষ মুহূর্তের অভিজ্ঞতা জানিয়ে কায়সার হামিদ বলেন, “চিকিৎসকেরা প্রথমে তার ফুসফুসের সংক্রমণ রোধে চিকিৎসা শুরু করেছিলেন এবং পরবর্তীতে লিভার ট্রান্সপ্লান্টের (যকৃৎ প্রতিস্থাপন) প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন। কিন্তু ফুসফুসে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার সময় হঠাৎ ওর প্রেশার অনেক নিচে নেমে যায়। চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন, কিন্তু ওকে আর বাঁচানো গেল না।”

তারুণ্যের প্রিয় মুখ কারিনা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজস্ব সৃজনশীল কনটেন্ট তৈরি, সাবলীল উপস্থাপন এবং চমৎকার অভিনয়ের মাধ্যমে কারিনা কায়সার তরুণ প্রজন্মের কাছে অত্যন্ত পরিচিত ও জনপ্রিয় মুখ ছিলেন। তার এই আকস্মিক চলে যাওয়া ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েশন ইন্ডাস্ট্রিতে এক বড় শূন্যতা তৈরি করলো।