মেট্রোরেল নির্মাণ চুক্তি
ছবি: সংগৃহীত
banner

ঢাকা মেট্রোরেলের দুটি লাইনের আটটি প্যাকেজের নির্মাণকাজ পেয়েছে বাংলাদেশ, চীন, জাপান, ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এসব কাজের মোট চুক্তিমূল্য প্রায় ৫৮ হাজার ৪৭৮ কোটি টাকা।

এর মধ্যে এমআরটি লাইন-১ (১ম সংশোধিত) প্রকল্পের ছয়টি প্যাকেজের মূল্য ৫৩ হাজার ৯৫৯ কোটি টাকা, আর এমআরটি লাইন-৫ (উত্তরা রুট, ১ম সংশোধিত) প্রকল্পের দুটি প্যাকেজের মূল্য চার হাজার ৫১৮ কোটি টাকা।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ-সংক্রান্ত আটটি প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ মেট্রোরেলের এসব প্রস্তাব উপস্থাপন করে। বাংলাদেশ সরকার ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) যৌথ অর্থায়নে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) প্রকল্প দুটি বাস্তবায়ন করছে।

লক্ষণীয় বিষয় হলো, বিভিন্ন যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডের উপস্থিতি রয়েছে মোট তিনটি প্যাকেজে, একটি জাপানি ও দুটি চীনা প্রতিষ্ঠানের সাথে অংশীদারিত্বে।

সবচেয়ে বড় অংশ গেলো জাপানের হাতে

মোট চুক্তিমূল্যের অর্ধেকের বেশি কাজ পেয়েছে জাপানের প্রতিষ্ঠান। লাইন-১-এর সবচেয়ে বড় প্যাকেজ, রামপুরার উত্তর থেকে নতুন বাজার স্টেশন পর্যন্ত মেইন লাইন ও স্টেশন নির্মাণের কাজ পেয়েছে টোকিও-এমআইএল যৌথ উদ্যোগ, যার চুক্তিমূল্য ১৮ হাজার ৩৭ কোটি টাকার বেশি।

এছাড়া নর্দ্দা স্টেশনের উত্তর থেকে বিমানবন্দর স্টেশন পর্যন্ত ৫.১৮২ কিলোমিটার অংশের মেইন লাইন ও স্টেশনের কাজ পেয়েছে নিশিমাৎসু-টিপিএল-তোদা যৌথ উদ্যোগ, যার মূল্য ১১ হাজার ৫৯০ কোটি ৫৮ লাখ টাকার বেশি।

দুটি প্যাকেজ মিলিয়ে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো পেয়েছে প্রায় ২৯ হাজার ৬২৮ কোটি টাকার কাজ, যা মোট মূল্যের প্রায় ৫০.৭ শতাংশ।

ভারতের দুই প্রতিষ্ঠানের ভাগে প্রায় ৩০ শতাংশ

লাইন-১-এর ট্র্যাক ওয়ার্কস ও বৈদ্যুতিক সুবিধার কাজ পেয়েছে এলঅ্যান্ডটি-সুমিটোমো কনসোর্টিয়া, চুক্তিমূল্য ১১ হাজার ৬৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকার বেশি।

সিগন্যাল, টেলিযোগাযোগ, প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর ও এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের কাজ পেয়েছে ভারতের লারসেন অ্যান্ড টুব্রো লিমিটেড, যার মূল্য ছয় হাজার ৪৪৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকার বেশি।

দুই প্যাকেজ মিলিয়ে ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজের মূল্য প্রায় ১৭ হাজার ৫১২ কোটি টাকা, যা মোট মূল্যের প্রায় ২৯.৯ শতাংশ।

আরো পড়ুন- বন্ধ পাতাল মেট্রোরেলের কাজ, ব্যয় বাড়ার শঙ্কা

তিন প্যাকেজ পেলো চীনা যৌথ উদ্যোগ

চীনের প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বাধীন যৌথ উদ্যোগ তিনটি প্যাকেজের কাজ পেয়েছে। লাইন-১-এর ডিপোতে পূর্ত ও ভবন নির্মাণের কাজ পেয়েছে সিনোহাইড্রো-এসইবিসিএল যৌথ উদ্যোগ, মূল্য চার হাজার ২৮৫ কোটি ছয় লাখ টাকার বেশি।

একই লাইনের ট্রানজিশন থেকে বালু নদীর শুরু পর্যন্ত ৫.০০৭ কিলোমিটার অংশের কাজ পেয়েছে সিআরইসি-এমআইএল-এমবিইসি যৌথ উদ্যোগ, মূল্য দুই হাজার ৫৩৪ কোটি ৯ লাখ টাকার বেশি।

এছাড়া লাইন-৫-এর হেমায়েতপুর স্টেশন থেকে আমিনবাজার ট্রানজিশন এবং নতুন বাজার ট্রানজিশন থেকে ভাটারা স্টেশন পর্যন্ত এলিভেটেড অংশের মেইন লাইন ও পাঁচটি স্টেশন নির্মাণের কাজও তারা পেয়েছে, মূল্য দুই হাজার ৬৭০ কোটি ৯৮ লাখ টাকার বেশি।

তিন প্যাকেজ মিলিয়ে চীনা প্রতিষ্ঠান নেতৃত্বাধীন যৌথ উদ্যোগগুলো পাচ্ছে প্রায় ৯ হাজার ৪৯০ কোটি টাকার কাজ।

দক্ষিণ কোরিয়ার অংশগ্রহণও রয়েছে

লাইন-৫-এর ডিপোতে পূর্ত ও ভবন নির্মাণের কাজ পেয়েছে সিপিসি-হানিল যৌথ উদ্যোগ, যেখানে রয়েছে বাংলাদেশের কনকর্ড প্রগতি কনসোর্টিয়াম লিমিটেড এবং দক্ষিণ কোরিয়ার হানিল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড।

এই প্যাকেজের চুক্তিমূল্য এক হাজার ৮৪৭ কোটি ৫২ লাখ টাকার বেশি।

একই বৈঠকে অনুমোদন পেলো ইউরিয়া আমদানিও

একই বৈঠকে দেশের অভ্যন্তরীণ কারখানা ‘কাফকো’ থেকে তৃতীয় চালানে ৩০ হাজার টন বস্তাজাত ইউরিয়া সার ১৬২ কোটি ৩৯ লাখ টাকায় কেনার অনুমোদন দেয়া হয়, যেখানে প্রতি টনের দাম পড়ছে ৪৩৮.১২৫ ডলার।

এছাড়া সৌদি আরবের ‘সাবিক এগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস’ থেকে ষষ্ঠ চালানে ৪০ হাজার টন ইউরিয়া ২২৮ কোটি ৮৯ লাখ টাকায় এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘ফার্টিগ্লোব’ থেকে প্রথম চালানে ৪০ হাজার টন ইউরিয়া ২৬৯ কোটি ৫৫ লাখ টাকায় আমদানির সিদ্ধান্তও চূড়ান্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্যসেবা ও ই-জিপি খাতেও অনুমোদন

স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের অধীনে রেনাটা থেকে দুটি আলাদা প্যাকেজে মোট তিন কোটি ৮৭ লাখ ৫০ হাজার সাইকেল তৃতীয় প্রজন্মের জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি কেনার সিদ্ধান্তও হয়েছে, যাতে সরকারের ব্যয় হবে ১৯৩ কোটি ১৬ লাখ টাকা।

সরকারি ই-জিপি ব্যবস্থার আধুনিকায়নের জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ‘দোহাটেক নিউ মিডিয়া’কে এক বছরের জন্য ৪২ কোটি ১৮ লাখ টাকায় দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

এছাড়া আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানির ২২৫ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে পুনর্নির্ধারিত মূল্যে বিদ্যুৎ ক্রয়ের অনুমোদনও দেয়া হয়েছে, যেখানে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য পড়বে ৫ টাকা ৭৭ পয়সা।