নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা-“মানুষ মানুষের জন্য” — এই মানবিক স্লোগানকে সামনে রেখে রাজধানীর উত্তর কাফরুল উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে আব্বাস আলী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে গরিব, দুঃখী ও অসহায় মানুষের মাঝে ১২৫০ প্যাকেটের বেশি ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

পবিত্র ঈদকে সামনে রেখে এমন উদ্যোগে উপকারভোগীদের মাঝে দেখা গেছে স্বস্তি, কৃতজ্ঞতা আর আনন্দের অশ্রু। অনেকেই বলেন, যখন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়ায় নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে, ঠিক তখনই এই সহায়তা তাদের ঈদের আনন্দকে কিছুটা হলেও সহজ করেছে।

জানা গেছে, আর্তমানবতার সেবায় আব্বাস আলী ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা আব্বাস আলী গত ১৬ বছর ধরে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আসছেন। সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে তিনি ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে আব্বাস আলী ফাউন্ডেশনের নির্বাহী কমিটির সভাপতি রহমত এলাহী সোহাগ বলেন,
“ আজ আমরা সুবিধা বঞ্চিত মানুষদের মাঝে ১২৫০ এরও বেশী ইদ উপহার সামগ্রী বিতরণ করেছি। আব্বাস ভাইয়ের মহৎ উদ্যোগে আজ থেকে ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাফরুল, ইব্রাহীমপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এই কার্যক্রম শুধু আজকের জন্যই সীমাবদ্ধ নয়, বরং ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকবে। আব্বাস ভাই সব সময় সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের সহযোগিতা করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন এবং আগামীতেও করবেন।”

ঈদ উপহার পেয়ে অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফুটতে দেখা যায়। অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে আব্বাস আলীর জন্য দোয়া করেন। কেউ কেউ বলেন,
“এমন একজন মানুষ, যিনি কোনো দলের হয়ে নয়, মানুষের জন্য কাজ করেন। তিনি সবসময় আমাদের পাশে থাকেন। আল্লাহ তাকে ভালো রাখুন।”

স্থানীয়দের কেউ কেউ আরও বলেন, আব্বাস আলী শুধু ঈদ উপহার বিতরণেই থেমে থাকেন না; বরং বছরজুড়ে তিনি অসহায়, নিম্নবিত্ত ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন। এ কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে তার প্রতি আলাদা ভালোবাসা ও আস্থা তৈরি হয়েছে।

এদিন উপহার নিতে আসা বহু মানুষের চোখেমুখে ছিল স্বস্তির ছাপ। তাদের ভাষায়, ঈদের আগে এই সহায়তা শুধু উপহার নয়, বরং অনেক পরিবারের জন্য এটি ছিল কিছুটা নিশ্চিন্ত হওয়ার সুযোগ। বিশেষ করে যারা আয়-রোজগারের অনিশ্চয়তায় দিন কাটান, তাদের কাছে এই উদ্যোগ ছিল অনেক বড় সহায়তা।

তবে শেষ দিকে আসা কিছু মানুষ অভিযোগ করেন তারা কার্ড পাননি, কেউ বলেন অনেক স্বচ্ছল মানুষ পেয়েছে কিন্তু গরীবরা পায়নি। তবে এ বিষয়ে আয়োজকদের মতামত- আমরা সকল অসহায়দের খোজঁ করে টোকেন এর মাধ্যমে দিচ্ছি। অনেককে পাওয়া যায়নি, তারা এখন আসছে। ইনশাআল্লাহ তাদেরকেও আগামীতে দেয়া হবে। নাম লিখে রাখা হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, মানবিকতা, দায়িত্ববোধ এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর যে উদাহরণ আব্বাস আলী ফাউন্ডেশন তৈরি করেছে, তা সমাজের অন্য বিত্তবান ও সক্ষম মানুষদেরও অনুপ্রাণিত করবে। তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে অব্যাহত থাকবে।









