Home আমার ঢাকা শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে উত্তাল শাহবাগ: বিচার দাবিতে ছাত্র-জনতার ঢল

শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে উত্তাল শাহবাগ: বিচার দাবিতে ছাত্র-জনতার ঢল

177
0
শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে উত্তাল শাহবাগ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা এবং ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির প্রয়াণে শোক ও বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানীর শাহবাগ।

শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সকাল থেকেই হাদির মৃত্যুর প্রতিবাদে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে শাহবাগে জড়ো হতে শুরু করেছেন ছাত্র-জনতা।

হাতে জাতীয় পতাকা এবং মুখে স্বৈরাচারবিরোধী স্লোগানে পুরো এলাকা প্রকম্পিত হয়ে উঠছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ভিড় ক্রমেই বাড়ছে।

স্লোগানে মুখর শাহবাগ চত্বর

সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শাহবাগ মোড়ে গিয়ে দেখা যায়, হাজার হাজার মানুষ সেখানে সমবেত হয়েছেন। উপস্থিত জনতা ‘ফ্যাসিবাদের কালো হাত ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’, ‘আওয়ামী লীগের আস্তানা এই বাংলায় হবে না’, ‘হাদি ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেব না’—এমন সব তীব্র স্লোগানে বিচার দাবি করছেন।

বিক্ষোভকারীদের প্রতিক্রিয়া

শনিরআখড়া থেকে আসা মাদ্রাসাশিক্ষার্থী আশফাকুর রহমান আবেগপ্লুত কণ্ঠে বলেন:

“আমরা একজন সাচ্চা দেশপ্রেমিককে হারিয়েছি। হাদি ভাইয়ের ওপর এই বর্বরোচিত হামলা আমরা মেনে নিতে পারছি না। প্রতিবাদ জানাতেই ভোরে এখানে চলে এসেছি। ওসমান হাদির মতো সাহসী মানুষকে হারিয়ে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।”

রামপুরা থেকে আসা ইমরুল কায়েস বলেন:

“হাদির মৃত্যু পুরো দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে। ঘাতকরা ভেবেছে গুলি করে কণ্ঠ স্তব্ধ করে দেবে, কিন্তু তারা সফল হবে না। আমরা এই শোককে শক্তিতে রূপান্তর করব। খুনিদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ব না।”

ঘটনার প্রেক্ষাপট

গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগ চলাকালে চলন্ত রিকশায় থাকা অবস্থায় আততায়ীর গুলিতে গুরুতর আহত হন শরিফ ওসমান হাদি। মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকায় এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। দীর্ঘ এক সপ্তাহ মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাত পৌনে ১০টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ শুরু হয়। বর্তমানে শাহবাগসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে থমথমে ও উত্তাল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।