বিগত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে দেশের অন্যতম শীর্ষ গণমাধ্যম ‘ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন’ দখলের মরিয়া চেষ্টা চালিয়েছে একদল সুবিধাবাদী ও বহুরূপী কর্মী। কখনো অন্তর্বর্তী সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম ভাঙিয়ে, আবার কখনো বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ শীর্ষ নেতাদের রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এই দখলের নীলনকশা সাজানো হয়।
তবে প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৫০০ স্টাফের রুটি-রুজির কথা চিন্তা করে এবং সব অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্র ও মব কালচার (Mob Culture) উপেক্ষা করে টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ শক্ত হাতে প্রতিষ্ঠানটিকে গতিশীল করার উদ্যোগ নিয়েছে। যার ফলে এই দখলদার চক্রের ষড়যন্ত্র পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে এবং আরও একবার রক্ষা পেয়েছে দেশের জনপ্রিয় এই গণমাধ্যম।
মামা বড় নেতা! পরিচয় দিয়ে নিউজরুম প্রধানের দাপট
প্রতিষ্ঠানের ত্যাগী ও সাধারণ কর্মীরা জানান, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে ইনডিপেনডেন্ট টিভির দায়িত্বে বিএনপিপন্থী দাবিদার এক সাংবাদিক নিউজরুম প্রধানের পদে বসেন। টেলিভিশনটির এই অ্যাসোসিয়েট এডিটর মূলত তাঁর ‘মামা বিএনপির বড় নেতা’—এমন পারিবারিক রাজনৈতিক পরিচয় ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে অফিসে নানাভাবে অবৈধ প্রভাব বিস্তার শুরু করেন।
অথচ বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এই অ্যাসোসিয়েট এডিটর এবং সিএনই-এর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে তাঁদের চাকরি থেকে বাদ দিতে বিভিন্ন সংস্থা চাপ সৃষ্টি করেছিল। তখন টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ সকল ধরনের চাপ উপেক্ষা করে তাঁদের চাকরি বহাল রেখেছিল। আজ তারাই প্রতিষ্ঠানের পিঠে ছুরি মেরে একে হুমকির মুখে ফেলছে বলে ক্ষোভ জানান সাধারণ কর্মীরা।
দীপু মনি ও সাদ্দামের ‘ডান হাত’ রাতারাতি ছাত্রদল নেতা!
এই দখল প্রক্রিয়ার অন্যতম মূল মদদদাতা হিসেবে কাজ করেছেন শিক্ষাবিটের বহুরূপী এক সিনিয়র রিপোর্টার। জানা গেছে, বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে তিনি অন্তত ৬ বার বিভিন্ন দেশে সরকারি ট্যুর করেছেন। সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের ‘ডান হাত’ হিসেবেও তাকে একনামে চিনতেন সবাই।

আশ্চর্যের বিষয় হলো, ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার আসার সাথে সাথেই তিনি হয়ে যান ‘জুলাই চেতনা’ বিক্রেতা। তখন নিউজরুমে বিএনপির ত্যাগী নেতা রুহুল কবির রিজভীসহ শীর্ষ নেতাদের নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতেন এই রিপোর্টার। পরবর্তীতে অফিসে কৃত্রিম মব সৃষ্টি করে বাগিয়ে নেন পদোন্নতিও। আর দেশে বিএনপি সরকার গঠনের সাথে সাথেই তিনি আবারও ভোল পাল্টে নিজেকে ‘সাবেক ছাত্রদল কর্মী’ দাবি করে বসেন এবং টেলিভিশন দখলে মব তৈরির চেষ্টা চালান।
জিয়া পরিবারের সদস্য পরিচয় দিয়ে সুবিধা গোছানোর চেষ্টা
এই টেলিভিশন দখল প্রক্রিয়ায় যুক্ত হন জিয়া পরিবারের ভুয়া সদস্য পরিচয় দেওয়া এক সিনিয়র নিউজ এডিটর। প্রতিষ্ঠানের বহু কর্মীর অভিযোগ, চরম স্বার্থপর ও সুবিধাবাদী এই সাংবাদিক যে আদতে ‘বিএনপিপন্থী’, তা অফিসের কেউ ৫ আগস্টের আগে টের পায়নি। রাজনৈতিক পালাবদলের পর রাতারাতি নিজের রঙ বদলে তিনি এই দখলদার সিন্ডিকেটের সাথে হাত মেলান।
ব্যর্থ হলো সব চক্রান্ত, সচল ইনডিপেনডেন্ট টিভি
আওয়ামী লীগের পতনের পর এই চক্রটি অন্তর্বর্তী সরকারের একজন প্রভাবশালী ব্যক্তির সহযোগিতায়, ইনডিপেনডেন্ট টিভির কয়েকজন সৎ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা মিথ্যা অভিযোগ এনে তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞাসহ বিভিন্ন মানসিক চাপ তৈরি করে, যেন তারা পদ ছেড়ে চলে যান। কিন্তু সেই চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর তারা বর্তমান সরকারের শীর্ষ মহলের নাম ভাঙিয়ে নতুন ষড়যন্ত্র শুরু করে।
তবে ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ কোনো ধরনের অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করে প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও গতিশীলতা বজায় রেখেছে। ৫০০ কর্মীর কর্মসংস্থান রক্ষা পাওয়ায় স্বস্তি ফিরে এসেছে ইনডিপেনডেন্ট টিভির সংবাদকক্ষে।
-নিজস্ব সংবাদদাতা










