গাজীপুর শ্রমিক বিক্ষোভ
ছবি: সংগৃহীত
banner

ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকার দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভে আজও উত্তপ্ত রয়েছে গাজীপুর, মিরপুর ও সাভার–আশুলিয়া।

ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ, পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও সংঘর্ষে সাংবাদিক, বিজিবি সদস্য ও আন্দোলনকারীসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।

সাংবাদিকদের ওপর হামলা

গাজীপুর মহানগরীর নাওজোর এলাকায় দুপুর ১২টার দিকে সংবাদ সংগ্রহকালে সময় টিভির রিপোর্টার মেহেদী হাসান ও তার ক্যামেরাপারসনের ওপর হামলা হয়। হামলাকারীরা তাদের ক্যামেরা ভাঙচুর করে।

এ ছাড়া এসএ টিভির ক্যামেরাপারসন রেজা ইসলাম পায়ে আঘাত পান এবং এখন টিভির রিপোর্টার ইফতেখারও আহত হন। আহত সাংবাদিকদের স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

আগের দিনও পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে একাধিক সাংবাদিকের ওপর হামলা, মারধর ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গাজীপুর শ্রমিক বিক্ষোভ
ছবি: সংগৃহীত

মহাসড়ক অবরোধ ও সংঘর্ষ

সকাল ৮টার দিকে গাজীপুরের কালিয়াকৈরের মৌচাক, সফিপুর, আনসার একাডেমির ৩ নম্বর গেট, হরিণহাটি ও পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে উভয় দিকে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়।

বেলা ১১টার দিকে পুলিশ, বিজিবি ও শিল্প পুলিশ শ্রমিকদের সরাতে গেলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী টিয়ারশেল ও লাঠিচার্জ ব্যবহার করে; পাল্টা ইটপাটকেল নিক্ষেপে বিজিবির এক সদস্য আহত হন।

দুপুর ১টার দিকে নাওজোর এলাকায় পুলিশের তিনটি গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে দুপুর ১টার পর ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

গাজীপুর শ্রমিক বিক্ষোভ
ছবি: সংগৃহীত

মিরপুর ও সাভারের পরিস্থিতি

মিরপুরের ১০, ১১ ও ১৪ নম্বর এলাকায় শ্রমিকরা রাস্তায় নামার চেষ্টা করলে পুলিশ টিয়ারশেল ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে। এ সময় একটি পুলিশ গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।

সাভার ও আশুলিয়ায়ও শ্রমিকরা কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। অস্থিরতার কারণে সাভার–আশুলিয়া ও গাজীপুরের প্রায় ৪০০ কারখানা সাময়িক ছুটি ঘোষণা করেছে; এর মধ্যে গাজীপুরে ১২০টি কারখানা বন্ধ রয়েছে।

গ্রেপ্তার ও মামলা

গাজীপুরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তিনটি মামলা দায়ের হয়েছে। মামলাগুলোতে প্রায় ৪,০০০ জনকে আসামি করা হয়েছে এবং অন্তত ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আগের দিন মিরপুরে ২৯ ও গাজীপুরে ২০ জন গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। ফলে দুই দিনে মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা ৪৯-এর বেশি হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

নিরাপত্তা ও শ্রমিকদের দাবি

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গাজীপুরে ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। ২১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিজিবি সদস্যরা বিভিন্ন এলাকায় দায়িত্ব পালন করছেন।

শ্রমিকরা বলছেন, শুধু মজুরি বোর্ড গঠনেই সমস্যার সমাধান হবে না। তারা ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।