সিলেট ও বগুড়ায় বাস দুর্ঘটনায় নিহত ১৪

একই দিন সকালে দেশের দুটি পৃথক মহাসড়কে ঘটা দুই ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় শিশু এবং দিনমজুর শ্রমিকসহ অন্তত ১৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে সিলেটের ওসমানীনগরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুটি দূরপাল্লার বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক শিশুসহ ৮ জন নিহত হয়েছেন।

অন্যদিকে বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কে একটি অনিয়ন্ত্রিত যাত্রীবাহী বাস কাজের জন্য অপেক্ষমাণ শ্রমিকদের ওপর উঠে গেলে নিহত হন আরও ৬ জন। এসব মর্মান্তিক ঘটনায় উভয় স্থানে আহত হয়েছেন অন্তত ৩৫ জন।

আজ শুক্রবার (৭ আগস্ট) ভোরে ও সকালে পৃথক এই রক্তক্ষয়ী ট্র্যাজেডি দুটি ঘটে।

সিলেটের ওসমানীনগরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ: খাদে পড়ে ৮ মৃত্যু

শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে ৭টা ১০ মিনিটের মধ্যে ওসমানীনগর থানার কাশিকাপন এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে প্রথম হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনাটি ঘটে।

পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা মুখী ইউনিক পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা সিলেটগামী বেঙ্গল স্লিপার কোচের মুখোমুখি বিকট সংঘর্ষ হয়।

সংঘর্ষের প্রচণ্ড ধাক্কায় ইউনিক পরিবহনের বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশে গভীর খাদে উল্টে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই ইউনিক পরিবহনের ৭ জন যাত্রী নিহত হন।

খবর পেয়ে স্থানীয় জনগণ, শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ এবং ওসমানীনগর থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা যৌথ উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। দুর্ঘটনায় আহত অন্তত ২৫ জনকে উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়।

গুরুতর আহত ৩ বছরের এক শিশুকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৮ জনে। নিহতদের মরদেহ শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে।

আরোপড়ুন- টাঙ্গাইলে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে মুরগিবাহী পিকআপের ধাক্কা

বগুড়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে শ্রমিকদের ওপর উঠে গেল বাস: নিহত ৬

সিলেটের ঘটনার দুই ঘণ্টা আগে, ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কের এরুলিয়া সিল্কিবান্ধা এলাকায় ঘটে দ্বিতীয় রক্তক্ষয়ী দুর্ঘটনা। প্রতিদিনের মতো সকালে কাজের খোঁজে রাস্তার পাশে জটলা বেঁধে অপেক্ষা করছিলেন দিনমজুর শ্রমিকরা।

এ সময় ঢাকা থেকে নওগাঁগামী একটি অনিয়ন্ত্রিত যাত্রীবাহী বাস প্রথমে সড়কের পাশের একটি বৈদ্যুতিক খুঁটিতে সজোরে ধাক্কা দেয়। এরপর চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে বাসটি সরাসরি রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা নিরীহ শ্রমিকদের ওপর চেপে বসে।

এতে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। আহত অন্তত ১০ জনকে উদ্ধার করে দ্রুত বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ৩ জন মারা যান।

বগুড়া পুলিশের এএসআই শফিকুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনায় মোট ৬ জন শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছেন এবং চিকিৎসাধীন কয়েকজনের অবস্থা চরম আশঙ্কাজনক।

সূত্র: ইত্তেফাক