টাঙ্গাইলে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪
ছবি: সংগৃহীত

টাঙ্গাইলের সখিপুরে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাঁশ বোঝাই ট্রাকের পেছনে মুরগি বোঝাই পিকআপের সজোরে ধাক্কায় ৪ জন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৯ জুন ২০২৬) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে সখিপুর-সাগরদীঘি সড়কের কালিয়া ঘোনারচালা এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

এ সময় ট্রাকে থাকা একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনাস্থলেই পিকআপের চার আরোহীর মৃত্যু

নিহতরা সবাই ঢাকাগামী ওই মুরগি বোঝাই পিকআপের চালক, সহকারী ও আরোহী ছিলেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহতরা হলেন— ১. পিকআপ চালক নূরনবী (৬৪), তিনি জামালপুরের বকশিগঞ্জের আবুল হাকিমের ছেলে। ২. হেলপার রফিকুল (১৮), তিনি নওগাঁর পত্নীতলা এলাকার পলাশের ছেলে। ৩. সাগর (২২), তিনি নেত্রকোনার কেন্দুয়ার এরশাদের ছেলে। ৪. সুমন (২৬), তিনি ভোলার সেলিমের ছেলে।

এছাড়া এই দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত ব্যক্তির নাম জহিরুল ইসলাম (৪০)। তিনি টাঙ্গাইলের ঘাটাইলের লক্ষিন্দর এলাকার আফসার আলী মন্ডলের ছেলে এবং দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটিতে অবস্থান করছিলেন।

ভোররাতের চোখে ঘুম নাকি ঘন কুয়াশা?

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোরে বাঁশ বোঝাই একটি ট্রাক কালিয়া ঘোনারচালা এলাকায় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় কুষ্টিয়া বা উত্তরবঙ্গ অঞ্চল থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী দ্রুতগতির মুরগি বোঝাই পিকআপটি ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকটির পেছনে প্রচণ্ড শক্তিতে ধাক্কা দেয়। ধাক্কায় পিকআপের সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে ট্রাকের নিচে ঢুকে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই পিকআপে থাকা চারজনের মৃত্যু হয়।

আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ হস্তান্তরের প্রস্তুতি

খবর পেয়ে সখিপুর থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহগুলো উদ্ধার করে। সখিপুর থানার এএসআই মো. আল মামুন দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ‘ভোররাতের এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর নিহতদের পকেটে থাকা আইডি কার্ড ও মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। স্বজনরা থানায় এসে পৌঁছালে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহগুলো ময়নাতদন্ত ছাড়াই বা প্রক্রিয়ামাফিক হস্তান্তর করা হবে।’

দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দুটি পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং এই বিষয়ে সখিপুর থানায় একটি অপমৃত্যু বা সড়ক পরিবহন আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে।