জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, গণভোটের রায় কার্যকর এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন মিত্রদের মধ্যে ফাটল ধরেছে। এই ইস্যুতে ক্ষমতাসীন বিএনপির বিরুদ্ধে ‘প্রতারণা’র অভিযোগ এনে ঈদুল ফিতরের পর রাজপথে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
নির্ধারিত সময়ে ডাকেনি অধিবেশন
জুলাই আদেশ অনুযায়ী, নির্বাচনের ফলের গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের প্রথম অধিবেশন ডাকার বাধ্যবাধকতা ছিল, যার সময়সীমা গত রবিবার শেষ হয়েছে। কিন্তু রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে কোনো অধিবেশন আহ্বান না করায় এই পরিষদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
জামায়াত ও ১১ দলের কঠোর অবস্থান
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “একই দিনে দুটি ভোট হলেও সরকার শুধু জাতীয় সংসদের অধিবেশন ডেকেছে। বিএনপি সরকার গঠনের পর তাদের আগের অবস্থান থেকে ইউটার্ন নিয়েছে। এটি জাতির সঙ্গে বড় ধরনের প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতা।” তিনি স্পষ্ট জানান, ঈদের পরেই লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক থেকে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সংসদের ভেতরে বিতর্ক ও উত্তেজনা
জাতীয় সংসদেও এই ইস্যু নিয়ে উত্তাপ ছড়িয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান এই অচলাবস্থায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “সংসদের ভেতরে যদি সমাধান না হয় এবং জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন না ঘটে, তবে আমরা রাজপথে নামতে বাধ্য হব।”
এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “সংবিধানে সংস্কার পরিষদের অস্তিত্ব না থাকায় প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ দিতে পারেন না। তাই রাষ্ট্রপতিও অধিবেশন ডাকেননি।” তিনি বিষয়টি কার্য উপদেষ্টা কমিটিতে আলোচনার প্রস্তাব দেন।
এনসিপি-র হুঁশিয়ারি
এনসিপি-র আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, “সরকার পুরোনো পথে হাঁটতে শুরু করেছে এবং সংস্কারের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত সংসদ ও রাজপথে আন্দোলন চলবে।” একই সুরে কথা বলেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন। তিনি বলেন, “জনগণের রায় প্রত্যাখ্যান করার কোনো সুযোগ নেই, আমরা তা বাস্তবায়ন করেই ছাড়ব।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন নিয়ে বিএনপি ও জামায়াত-এনসিপি জোটের এই দূরত্ব দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নের দাবিতে বিরোধী দলগুলোর এই ঐক্যবদ্ধ অবস্থান সরকারকে বেশ চাপে ফেলবে।










