বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কেউ জামায়াতে ইসলামী করতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান। তিনি বলেন, “কোনো শহীদ পরিবারের লোক জামায়াত করলে এটা ডাবল (দ্বিগুণ) অপরাধ।” মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় তাঁর এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সংসদ অধিবেশনে চরম উত্তেজনা ও অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়।

সংসদে তুমুল হট্টগোল ও স্পিকারের কঠোর হুঁশিয়ারি

ফজলুর রহমানের বক্তব্যের প্রতিবাদে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সদস্যরা একযোগে দাঁড়িয়ে হইচই শুরু করলে সংসদে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ আসন ছেড়ে দাঁড়িয়ে সদস্যদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। স্পিকার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:

“এই আচরণ পুরো জাতি সরাসরি সম্প্রচারিত দেখছে। সংসদ যদি বিধি মোতাবেক না চলে, তাহলে এই সংসদ আর থাকবে না। সদস্যদের এমন কর্মকাণ্ডে শিশুরাও লজ্জা পাবে।”

মুক্তিযুদ্ধ বনাম ৫ আগস্ট: ফজলুর রহমানের কড়া সমালোচনা

জুলাই অভ্যুত্থানকে মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করার সমালোচনা করে ফজলুর রহমান বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে ৫ আগস্টের তুলনা করা হচ্ছে—এটি প্রশান্ত মহাসাগরের সঙ্গে কুয়ার তুলনা করার মতো। মুক্তিযুদ্ধই একমাত্র সত্য।” তিনি আরও বলেন, “যতদিন রয়েল বেঙ্গল টাইগার বেঁচে থাকবে, ততদিন রাজাকার এদেশে কখনো জয়লাভ করতে পারবে না।”

৫ আগস্ট পরবর্তী পুলিশ হত্যা ও থানা লুটের বিচার দাবি

ফজলুর রহমান জুলাই আন্দোলনে পুলিশি অ্যাকশনের দায়মুক্তি আইন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন:

“১৬ ডিসেম্বরের পরে শত শত রাজাকার আমার কাছে আত্মসমর্পণ করেছে, আমি কাউকে হত্যা করিনি। কিন্তু ৫ আগস্টের পরে অনেক থানা লুট হয়েছে, পুলিশকে হত্যা করা হয়েছে। সেটির তদন্ত হওয়া উচিত এবং দোষীদের বিচার হওয়া উচিত।”

তাঁর এই বক্তব্যে সরকারি দলের অনেক সদস্যকেও অস্বস্তি প্রকাশ করতে দেখা যায়।

বিরোধী দলীয় নেতার পাল্টা জবাব

ফজলুর রহমানের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “মুক্তিযুদ্ধে নিজের অবদান বলতে গিয়ে আরেকজনের অবদানের ওপর হাতুড়ি পেটানোর অধিকার কাউকে দেওয়া হয়নি। আমি শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য—এটিকে চ্যালেঞ্জ করা গুরুতর অপরাধ।” তিনি ফজলুর রহমানের বক্তব্যের অসংসদীয় অংশ এক্সপাঞ্জ (প্রত্যাহার) করার দাবি জানান।

অবশেষে স্পিকার জানান, উভয় পক্ষের বক্তব্যে কোনো অসংসদীয় কথা থাকলে তা পরীক্ষা করে কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া হবে।