পল্লবীতে শিশু হত্যা
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির এক কন্যাশিশুকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

একই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও আদালতের আদেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আদালতে আসামিদের হাজিরা ও জনরোষ

বুধবার (২০ মে ২০২৬) আসামিদের কড়া নিরাপত্তায় আদালতে হাজির করা হলে সোহেল রানা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হন। ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালতে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। অন্যদিকে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হকের আদালত স্ত্রী স্বপ্নাক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

দুপুর সোয়া তিনটার দিকে সোহেল রানাকে যখন হাজতখানা থেকে আদালতে তোলা হচ্ছিল, তখন আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত ক্ষুব্ধ জনতা তার ফাঁসির দাবিতে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

যেভাবে ঘটেছিল এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড

পুলিশের তদন্ত ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, নিহত শিশুটি স্থানীয় একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত সোমবার (১৮ মে) সকাল সাড়ে নয়টার দিকে সে বাসা থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার কৌশলে তাকে নিজেদের ফ্ল্যাটে ডেকে নিয়ে যান। পরবর্তীতে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পরিবারের সদস্যরা তাকে স্কুলে নেওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

  • বালতির ভেতর মাথা: খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে অভিযুক্তদের ফ্ল্যাটের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান স্বজনরা। ডাকাডাকি করে সাড়া না পেয়ে তারা দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন। সেখানে একটি কক্ষে শিশুটির মস্তকবিহীন মরদেহ এবং অন্য একটি কক্ষে বালতির ভেতরে তার বিচ্ছিন্ন মাথাটি উদ্ধার করা হয়।
  • মরদেহ গুমের চেষ্টা: পুলিশের আবেদনে বলা হয়েছে, মূলত মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিশুটির মাথা শরীর থেকে আলাদা করা হয়েছিল।
  • গ্রিল কেটে পলায়ন: ঘটনার পরপরই ফ্ল্যাট থেকে স্বপ্না আক্তারকে আটক করা সম্ভব হলেও, অন্য একটি কক্ষের জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান মূল অভিযুক্ত সোহেল রানা। পরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

মামলায় তৃতীয় ব্যক্তির উল্লেখ

এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি ধর্ষণ ও হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় সোহেল রানা, স্বপ্না আক্তার এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও একজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় উল্লেখ করা হয়, শিশুটিকে যখন ফ্ল্যাটে নেওয়া হয়েছিল, তখন সেখানে তৃতীয় একজন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন, যিনি স্বজনরা দরজা ভাঙার আগেই পালিয়ে যান। পুলিশ এখন সেই অজ্ঞাত আসামিকে খুঁজছে।