কাতার-ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | দোহা-তেহরান– পবিত্র ঈদুল ফিতরের ঠিক আগ মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে বড় ধরনের মোড় পরিবর্তন ঘটেছে। কাতারের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রধান গ্যাস স্থাপনা রাস লাফানে (Ras Laffan) ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর তেহরানের বিরুদ্ধে কঠোর কূটনৈতিক অবস্থান নিয়েছে দোহা। এই ঘটনাকে কাতারের জাতীয় নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখছে দেশটি।

ইরানি কূটনীতিকদের কাতার ছাড়ার নির্দেশ

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার ঘটনায় চরম ক্ষুব্ধ কাতার সরকার। প্রতিক্রিয়ায় দোহায় নিযুক্ত ইরানের নিরাপত্তা ও সামরিক ‘অ্যাটাশে’দের (সংযুক্ত কর্মকর্তা) অবিলম্বে কাতার ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কূটনৈতিক ভাষায় এটি কোনো দেশের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার প্রাথমিক ধাপ হিসেবে বিবেচিত হয়।

এদিকে সৌদি আরবের পক্ষ থেকেও কড়া প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। রিয়াদ এক বিবৃতিতে বলেছে, “ইরানের প্রতি যে সামান্য আস্থা অবশিষ্ট ছিল, তা এই হামলার মাধ্যমে সম্পূর্ণ ভেস্তে গেছে।”

মুখ খুললেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা

অন্যদিকে, গত সোমবার ইসরায়েলি হামলায় ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রধান আলি লারিঞ্জানি (পুত্রসহ) এবং বাসিজ প্রধান গোলামরেজা সোলেমানি নিহত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো বিবৃতি দিয়েছেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি

বুধবার (১৮ মার্চ) দেওয়া এই বিবৃতিতে তিনি লারিঞ্জানিকে একজন ‘বুদ্ধিমান ও অঙ্গীকারবদ্ধ’ ব্যক্তিত্ব হিসেবে অভিহিত করেন। মোজতবা খামেনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “এই হত্যাকাণ্ডের দায়ীদের চরম মূল্য দিতে হবে। প্রতিটি রক্তের ফোঁটার হিসাব ইসলামের শত্রুদের অচিরেই পরিশোধ করতে হবে।”

কেন এই উত্তেজনা?

বিশ্লেষকরা বলছেন, লারিঞ্জানি ও সোলেমানি হত্যার পর ইরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তাদের পাল্টা হামলা জোরদার করেছে। তারই অংশ হিসেবে কাতারের গ্যাস স্থাপনায় হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে। তবে কাতার এতদিন ইরানের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করলেও, নিজেদের প্রধান অর্থনৈতিক স্থাপনায় হামলার পর সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।