টুপটুপ রিসোর্টে আগুন নিখোঁজ
ছবি: সমকাল
banner

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে ‘টুপটুপ রিসোর্ট’-এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে উদ্ধার হওয়া ১০টি পোড়া মরদেহ আগুনে এমনভাবে বিকৃত হয়ে গেছে যে স্বজনরাও পরিচয় নিশ্চিত করতে পারছেন না।

বর্তমানে মরদেহগুলো কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। সিআইডির সহায়তায় ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় শনাক্তের পর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে, যার প্রক্রিয়ায় তিন থেকে চার সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

এদিকে আরও এক স্কুলশিক্ষিকা নিখোঁজ থাকতে পারেন- স্বজনদের এমন তথ্যের ভিত্তিতে রোববার সকাল থেকে রিসোর্টের ভস্মীভূত ধ্বংসস্তূপে দ্বিতীয় দিনের মতো তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে ফায়ার সার্ভিস।

নিখোঁজ স্কুলশিক্ষিকা ও মর্গের সামনে স্বজনদের হাহাকার

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গের সামনে প্রিয়জনদের ছবি ও ভিডিও হাতে বিলাপ করছেন স্বজনরা। ঢাকা জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি দেওয়ান ফয়সাল তাঁর স্ত্রী নাসরিন আক্তারের খোঁজে কক্সবাজারে অবস্থান করছেন।

আশুলিয়ার ‘স্বপ্নবিলাস নিরিবিলি স্কুল’-এর শিক্ষিকা নাসরিন অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। তবে পোড়া লাশ দেখে কাউকেই শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

ঢাকার উত্তরা থেকে বেড়াতে আসা একই পরিবারের ৯ সদস্যের মধ্যে ৬ জনই মারা গেছেন এবং বাকি ৩ জন আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

যশোরের একই পরিবারের ৪ জনের মর্মান্তিক পরিণতি

অগ্নিদগ্ধ হয়ে নিহতদের মধ্যে যশোরের মনিরামপুর পৌরসভার মোহনপুর এলাকার একই পরিবারের চারজন রয়েছেন বলে জানা গেছে।

তারা হলেন- বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তা নাহিদুর রহমান তুহিন (৪০), তাঁর স্ত্রী আফসানা মতিন তানজি (৩৫) এবং তাদের দুই শিশুকন্যা রুজায়না ইয়ানা (৭) ও সুনায়না ইয়ানা (৩)।

স্বজনরা জানান, শনিবার সকালে আগুন লাগলে তুহিন পরিবার নিয়ে বাথরুমে আশ্রয় নিয়ে পানি দিয়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা করেছিলেন। উদ্ধারকারীরা বাথরুম থেকে দুই শিশুসহ চারজনের নিথর দেহ উদ্ধার করেছেন।

ডিএনএ নমুনার মিল পেলেই কেবল নিশ্চিত হওয়া যাবে। ইতোমধ্যে ঢাকার মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ে নিহতের স্বজনরা ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের জন্য নমুনা জমা দিয়েছেন।

অনুমোদনহীন রিসোর্ট, মালিকসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে জেলা প্রশাসনের গঠিত সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি রোববার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

তদন্ত কমিটির প্রধান ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসনীম জাহান জানান, কাঠের তৈরি ওই তিনতলা রিসোর্টটির ফায়ার সার্ভিস কিংবা পরিবেশ অধিদপ্তর – কোনোটারই বৈধ অনুমোদন ছিল না। এর আগে চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া হলেও রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ তা তোয়াক্কা করেনি।

এ ঘটনায় অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে রিসোর্টের মালিক মো. তানভীর ও নেওয়াজ মোর্শেদসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা মোট ২৩ জনের বিরুদ্ধে উখিয়া থানায় মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।

ইতোমধ্যে আটক রিসোর্ট ব্যবস্থাপক জাহিদুল ইসলাম ওরফে সুমনকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।