banner

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকার ‘টুপটুপ রিসোর্ট’-এ অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০ জনে দাঁড়িয়েছে।

এ মর্মান্তিক ঘটনায় অন্তত ৬ জন মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার হতাহতের এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থল থেকে এখন পর্যন্ত ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

ঘটনার সময় ওই রিসোর্টে মোট ১৮ জন পর্যটক অবস্থান করছিলেন। এখনো উদ্ধার তৎপরতা ও তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আগুনের লেলিহান শিখা ও স্বজনদের কান্না

অগ্নিদগ্ধ রিসোর্টটির একটি হৃদয়বিদারক ভিডিও ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে এক নারী পর্যটককে অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে বলতে শোনা যায়, “আমার সাইফকে আইন্না দাও!”

জানা গেছে, পূজার ছুটিতে ওই নারী পরিবার নিয়ে কক্সবাজার ভ্রমণে এসেছিলেন এবং তিনি এক সাংবাদিকের বোন। তবে সাইফ তাঁর সন্তান নাকি আত্মীয় এবং তিনি জীবিত আছেন কি না – তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র কর্মকর্তা দোলন আচার্য ঘটনাস্থল থেকে প্রাথমিকভাবে সাতটি মরদেহ উদ্ধারের কথা জানিয়েছিলেন। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, নিহত ব্যক্তিদের সকলেই পর্যটক। তবে তাঁদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা অনেক। তবে ঠিক কতজন পর্যটক প্রাণ হারিয়েছেন, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে জানাতে কিছুটা সময় লাগবে।

৩ ইউনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণ

ফায়ার সার্ভিস জানায়, শনিবার সকাল ৮টার দিকে আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নেভানোর কাজ শুরু করে।

সকাল ১০টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও বিজিবির যৌথ দল রিসোর্টটিতে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে।

অগ্নিকাণ্ডে কাঠ ও পরিবেশবান্ধব উপাদানে তৈরি টুপটুপ রিসোর্টটি পুরোপুরি ভস্মীভূত ও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা ধারণা করছেন, হতাহতের সংখ্যা সামনে আরও বাড়তে পারে।

এদিকে অগ্নিকাণ্ডের পরপরই রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা স্থান ছেড়ে পালিয়ে গেছেন।

অগ্নিকাণ্ডের আসল সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ পরিমাণ কত এবং রিসোর্টটিতে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল কি না- তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন।