বিরোধী দলের আট দফা দাবি এক দফায় পরিণত হলে পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ হয়ে উঠবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
তার ভাষায়, সেই পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার আগেই সরকারের উচিত সাম্প্রতিক অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে জনগণের দাবি মেনে নেয়া। দাবি মানতে ব্যর্থ হলে কোনো চোখরাঙানিতেই কাজ হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন তিনি, আর বিরোধী দল কোনো কিছুতেই পরোয়া করবে না বলেও মন্তব্য করেন।
শনিবার সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের রংপুরমুখী লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।
আরো পড়ুন- ওবায়দুল কাদের সহ সাতজনের মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করলো ট্রাইব্যুনাল

“৮ দফা বদলে যেতে পারে এক দফায়”
জামায়াত আমির বলেন, বিরোধী দলের ৮ দফা দাবি ৯ কিংবা ১০ দফায় রূপ নিতে পারে, আবার জাতির প্রয়োজনে যেকোনো সময় তা এক দফায়ও পরিণত হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামমুখী লংমার্চ সফল হওয়ায় অনেকের মাথা গরম হয়ে গেছে বলে মনে হচ্ছে, এবং এর কিছু লক্ষণ গত দুই দিন ধরে রাজধানীতে দেখা যাচ্ছে। তার আহ্বান, হতাশ হয়ে মাথা গরম না করে সরকারের উচিত জনতার দাবি মেনে নেয়া।

“১৮ কোটি মানুষের দাবি নিয়ে মাঠে নেমেছি”
শফিকুর রহমান বলেন, তারা ১৮ কোটি মানুষের দাবি নিয়ে মাঠে নেমেছেন এবং আজ ১৮ কোটি মানুষ ১১ দলের সাথে আছে। দাবি আদায় করেই ঘরে ফেরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
নাহিদ ইসলামের বক্তব্য: গণতন্ত্র ধ্বংসের অভিযোগ
জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি রেজাউল করিম এবং দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই উদ্বোধনী সমাবেশে বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি ক্ষমতায় এসে জনগণের অধিকার হরণ এবং গণতন্ত্র ধ্বংস করছে। তার ভাষায়, যারা অতীতে গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে, তাদের স্থান হয়েছে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে।

অন্যান্য দলের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতি
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন-
- লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ,
- বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক,
- এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু,
- বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম,
- বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান),
- বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আবদুল কাইয়ুম সুবহানী,
- বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দিন আহমদ,
- জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান এবং বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব ফখরুল ইসলাম।













