কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার গোলাপনগরে অপহরণের পর গণধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার হওয়া তমা খাতুন (২০) নামের এক তরুণী দীর্ঘ চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা গেছেন।
শুক্রবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। তমা গোলাপনগরের তোফাজ্জল হোসেনের মেয়ে।
এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগে তমার সাবেক স্বামী আবু বক্করকে আটক করেছে পুলিশ।
জানা গেছে, দেড় বছর আগে গোলাপনগর এলাকার আবু বক্করের সঙ্গে তমার বিয়ে হয়েছিল, তবে দেড় মাস আগে তাদের বিচ্ছেদ হয়ে যায়।
আরো পড়ুন- পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা
যেভাবে ঘটে অপহরণের ঘটনা
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে গোলাপনগর বাজারের একটি পার্লার থেকে নিজ বাড়ি ফকিরাবাদের বখশিপাড়ায় ফেরার পথে তমাকে জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
এরপর অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গিয়ে সংঘবদ্ধ একটি দল তার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালায়। পরে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় বখশিপাড়ার একটি নির্জন মোড়ে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
চার দিনের লড়াই শেষে মৃত্যু
রাত সাড়ে ১২টার পর পরিবারের সদস্যরা তমাকে উদ্ধার করে প্রথমে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
সেখানে চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার রাতে তিনি মারা যান।
ঘটনার পরদিনই তমার মা কাজলী খাতুন বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
পরিবারের বক্তব্য
তমার মামাতো ভাই ও যুবদল নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব জানান, তমা অত্যন্ত ভালো স্বভাবের একটি মেয়ে ছিলেন। তিনি বলেন, ১৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর গোলাপনগর বাজার থেকে তাকে অপহরণ করা হয় এবং সংঘবদ্ধ দলটি নির্যাতনের পর মুমূর্ষু অবস্থায় ফেলে রেখে চলে যায়।
চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হয়। তিনি জানান, এ বিষয়ে ভেড়ামারা থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
পুলিশের বক্তব্য
ভেড়ামারা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) রকিবুল ইসলাম জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তমার সাবেক স্বামী আবু বক্করকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।













