বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারপারসন ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর নেই।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর।

‘আপসহীন নেত্রী’ বেগম খালেদা জিয়া
ছবি: সংগৃহীত

চিকিৎসা ও শেষ মুহূর্ত

গত ২৩ নভেম্বর শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় খালেদা জিয়াকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। লিভার সিরোসিস, আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিসসহ বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। সোমবার সন্ধ্যা থেকেই তাঁর অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে এবং তাঁকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। মৃত্যুর সময় তাঁর পাশে ছিলেন বড় ছেলে তারেক রহমান, পুত্রবধূ ডা. জুবাইদা রহমান, নাতনি জাইমা রহমানসহ পরিবারের সদস্য এবং দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

এক নজরে বেগম খালেদা জিয়ার জীবন ও রাজনীতি

  • জন্ম ও শৈশব: ১৯৪৫ সালে জলপাইগুড়িতে জন্ম। ডাকনাম ‘পুতুল’। ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত দিনাজপুরের সুরেন্দ্রনাথ কলেজে পড়াশোনা করেন।
  • বৈবাহিক জীবন: ১৯৬০ সালে তৎকালীন ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমানের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
  • রাজনীতিতে অভিষেক: ১৯৮১ সালে স্বামী জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর দলের হাল ধরেন। ১৯৮৪ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন।
  • আপসহীন সংগ্রাম: এরশাদবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।
  • প্রধানমন্ত্রিত্ব: ১৯৯১ সালে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। পরবর্তীতে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালেও তিনি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

‘আপসহীন নেত্রী’ বেগম খালেদা জিয়া

কারাগার ও কারামুক্তি

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় দণ্ডিত হয়ে কারাগারে যান তিনি। পরবর্তীতে নির্বাহী আদেশে গুলশানের বাসায় থাকলেও নানা সীমাবদ্ধতা ছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতির আদেশে তিনি সব সাজা থেকে পূর্ণ মুক্তি লাভ করেন।

তার এই মৃত্যুতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি হলো। শোকাতুর নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ প্রিয় নেত্রীকে শেষ বিদায় জানাতে এভারকেয়ার হাসপাতাল ও নয়াপল্টনে ভিড় করছেন।