রাজধানী ঢাকাকে মরণফাঁদ যানজট থেকে মুক্ত করতে এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ আধুনিকায়ন করতে ঢাকার ভেতরের চারটি মূল আন্তঃনগর বাস টার্মিনাল শহরের বাইরে সরিয়ে নেওয়ার চূড়ান্ত নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত রাজধানীর যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত এক বিশেষ সভায় সভাপতিত্বকালে তিনি এই নির্দেশ দেন।
একই সাথে ঢাকার বিভিন্ন সড়কে যত্রতত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা সব দূরপাল্লার বাস কাউন্টারগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে উচ্ছেদ করে এই নির্দিষ্ট টার্মিনালগুলোতে স্থানান্তরের কড়া তাগাদা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
৪টি বাস টার্মিনাল যে যে এলাকায় স্থানান্তরিত হচ্ছে:
নতুন এই ট্রাফিক রি-লোকেশন প্ল্যান অনুযায়ী, ঢাকার চারপাশের প্রবেশমুখগুলোতে টার্মিনালগুলো যেভাবে বিন্যস্ত হবে:
| বর্তমান টার্মিনাল | যে নতুন এলাকায় স্থানান্তরিত হচ্ছে | বর্তমান অবস্থা ও পরিকল্পনা |
| ১. ফুলবাড়িয়া-গুলিস্তান বাস টার্মিনাল | কেরানীগঞ্জ | ঢাকা-মাওয়া ও দক্ষিণবঙ্গের বাসগুলোর চাপ কমাতে এটি কেরানীগঞ্জে যাচ্ছে। |
| ২. মহাখালী বাস টার্মিনাল | পূর্বাঞ্চল (অস্থায়ী) \ টঙ্গী (স্থায়ী) | প্রাথমিকভাবে এটি পূর্বাঞ্চলে যাবে এবং পরবর্তীতে টঙ্গীর কাছে স্থায়ীভাবে বসবে। |
| ৩. গাবতলী আন্তঃনগর টার্মিনাল | হেমায়েতপুর | উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের দূরপাল্লার বাসগুলো ঢাকার ভেতরে না ঢুকে হেমায়েতপুরেই থামবে। |
| ৪. সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ী টার্মিনাল | কাঁচপুর | চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বাসগুলোর জন্য কাঁচপুরে তৈরি হচ্ছে আধুনিক হাব। |
এআই (AI) ক্যামেরার ট্রাফিক সিগন্যালে সন্তোষ
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থা আধুনিকায়ন এবং ডিজিটাল ট্রাফিক সিগন্যালিং নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়।
ঢাকা শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে পরীক্ষামূলকভাবে স্থাপিত আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই (AI) ট্রাফিক ক্যামেরা স্থাপনের সুফল প্রাপ্তিতে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এই প্রযুক্তি পুরো রাজধানীতে ছড়িয়ে দিয়ে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা মানুষের হাতের স্পর্শমুক্ত (অটোমেটেড) করার তাগিদ দেওয়া হয় সভায়।
জনপ্রশাসন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই চার টার্মিনাল ঢাকার বাইরে চলে গেলে রাজধানীর ভেতরের দূরপাল্লার বাসের মরণকামড় আর থাকবে না। ফলে লোকাল বাস ও অভ্যন্তরীণ গণপরিবহনগুলো অনেক স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারবে।
টার্মিনাল স্থানান্তরের জন্য জমি অধিগ্রহণ ও অবকাঠামো নির্মাণের কাজ ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’ হিসেবে অতিদ্রুত শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।










