Home গণমাধ্যম গণমাধ্যম সংস্কারে কাঁটা! কামাল আহমেদ-মোহাম্মদ মহসীন দু’জনেরই ক্ষোভ: সরকারের অনীহা, ভেতরে ‘দালাল...

গণমাধ্যম সংস্কারে কাঁটা! কামাল আহমেদ-মোহাম্মদ মহসীন দু’জনেরই ক্ষোভ: সরকারের অনীহা, ভেতরে ‘দালাল সিন্ডিকেট’

249
0
গণমাধ্যম সংস্কারে কাঁটা
ছবি: সংগৃহীত

গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান কামাল আহমেদ-এর সরকারি উদ্যোগের অভাব নিয়ে হতাশা প্রকাশের পরপরই, ইনিউজ আপ ডট কম-এর প্রধান সম্পাদক মোহাম্মদ মহসীন গণমাধ্যম খাতের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি ও সিন্ডিকেট নিয়ে আরও কঠোর ভাষায় অভিযোগ করেছেন।

এই দুই শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্বের বক্তব্য বাংলাদেশের গণমাধ্যম সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা এবং বাস্তবতার মধ্যে এক বিশাল ব্যবধান উন্মোচন করেছে।

1. কামাল আহমেদের হতাশা: সরকারের সদিচ্ছার অভাব

কামাল আহমেদ তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করে দেন যে, অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে গণমাধ্যম সংস্কারের সদিচ্ছা প্রায় অনুপস্থিত।

গত মার্চে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন প্রতিবেদন জমা দিলেও গত আট মাসে তার বাস্তবায়ন নেই বললেই চলে।

  • দীর্ঘসূত্রিতা: তিনি উল্লেখ করেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর যে জন-আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল এবং একটি স্থায়ী গণতান্ত্রিক কাঠামো তৈরির জন্য জনস্বার্থে সাংবাদিকতা জরুরি, তার জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলো সরকার এড়িয়ে যাচ্ছে।
  • দৃশ্যমান উদ্যোগের অভাব: সামরিক জাদুঘরে ‘বাংলাদেশ এনার্জি কনফারেন্স ২০২৫’-এ তিনি বলেন, “সংস্কার দৃশ্যমান কিছু দেখছি না।”
  • সাবেক আমলের কৌশল: আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাংবাদিকদের ওপর ভয়, ভীতি ও শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি তৈরির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তখন সরকার সরাসরি হস্তক্ষেপ না করে বরং সুবিধাভোগী করপোরেট পেশিশক্তি ব্যবহার করে বিজ্ঞাপন বন্ধ ও মালিকানা বদলের মতো ‘অস্ত্র’ প্রয়োগ করত।

কামাল আহমেদের এই বক্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে, সংস্কারের জন্য আইনি কাঠামো ও সুপারিশ প্রস্তুত থাকলেও, তা বাস্তবায়নের রাজনৈতিক ইচ্ছা অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যে অনুপস্থিত।

2. মোহাম্মদ মহসীন-এর বিস্ফোরক অভিযোগ: সিন্ডিকেট ও দালাল চক্র

কামাল আহমেদের হতাশার মূল কারণ হিসেবে ইনিউজ আপ ডট কম পত্রিকার প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক মোহাম্মদ মহসীন

তাঁর দীর্ঘ দুই দশকের (২০০৫ সাল থেকে) সাংবাদিকতা জীবনের অভিজ্ঞতার আলোকে গণমাধ্যমের অভ্যন্তরীণ গলদকে দায়ী করেছেন।

তাঁর মতে, সংস্কারের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হলো সাংবাদিকদের মধ্যেই সক্রিয় একটি দুর্নীতিপরায়ণ সিন্ডিকেট:

  • সুবিধালোভী চক্র: মহসীন সরাসরি অভিযোগ করেন, গণমাধ্যমে এখনো “সুবিধালোভী, দালাল, অযোগ্য সাংবাদিকের সিন্ডিকেট কাজ করছে।”
  • রাজনৈতিক আশ্রয়: তিনি আরও দাবি করেন যে এই দালাল চক্রটি বর্তমানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আশ্রয়ে বহাল তবিয়তে আছে

এই রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতাই তাদের অজেয় করে তুলেছে এবং সংস্কারের পথ রুদ্ধ করেছে।

  • নীতিবানদের করুণ দশা: মহসীন গভীর ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, যারা “সাংবাদিকতার নীতি এবং নিজেদের কে বিক্রী করতে পারেনি,” সেই সত্যিকারের সাংবাদিকরা আজ কষ্টে আছেন এবং সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন

মোহাম্মদ মহসীন চূড়ান্ত হতাশা প্রকাশ করে প্রশ্ন ছুড়েছেন, “গণমাধ্যম কবে আর সংস্কার হবে? কে করবে সংস্কার? সব জায়গায় শকুনের দল!”

তাঁর এই উক্তি স্পষ্ট করে যে, গণমাধ্যম সংস্কারের ব্যর্থতা শুধু সরকারের অনাগ্রহ নয়, বরং পেশার মধ্যে গেঁথে থাকা দুর্নীতি ও রাজনৈতিক আশ্রিত সিন্ডিকেটের সম্মিলিত ফল।

বিশ্লেষণ: দ্বি-মুখী সংকট

এই দুই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বের বক্তব্য থেকে বোঝা যায় যে, বাংলাদেশের গণমাধ্যম আজ দ্বি-মুখী সংকটের সম্মুখীন:

  1. রাষ্ট্রীয়/রাজনৈতিক অনাগ্রহ: কামাল আহমেদ-এর অভিযোগ অনুযায়ী, সরকার কমিশনের প্রতিবেদন সত্ত্বেও সংস্কারের প্রক্রিয়াকে ধীরগতি করে রেখেছে।
  2. পেশাগত দুর্নীতি- মোহাম্মদ মহসীন-এর অভিযোগ অনুযায়ী,

গণমাধ্যমের ভেতরে থাকা শক্তিশালী ও রাজনৈতিকভাবে সংযুক্ত দালাল সিন্ডিকেট সব ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে আছে।

সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে সরকারি উদ্যোগের অভাব।

এবং একই সাথে গণমাধ্যমের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি। এই দুই চাপান-উতোরে সত্যিকারের জনস্বার্থের সাংবাদিকতা আজ গভীর সংকটে।