বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬ | রাত ১১:৪৫
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পদ্মা নদীতে তলিয়ে যাওয়া সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি শনাক্ত করার পর রাত সাড়ে ১১টা থেকে একের পর এক মরদেহ উদ্ধার করা শুরু হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল পানির নিচে থাকা বাসের সামনের অংশ শনাক্ত করে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করার পর এই মর্মান্তিক দৃশ্য সামনে আসে।
বাসের ভেতর থেকে যা মিলছে
ডুবুরিরা জানিয়েছেন, বাসের দরজা ভেঙে ভেতরে যাওয়ার পর তারা একের পর এক নিথর দেহ বের করে আনছেন। বাসের ভেতর থেকে ছোট ছোট শিশুদের স্কুলব্যাগ, জুতা-স্যান্ডেল এবং নারীদের ভ্যানিটি ব্যাগ ভেসে উঠতে দেখা গেছে, যা ঘাটে অপেক্ষমাণ স্বজনদের আহাজারি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। উদ্ধার করা মরদেহগুলো দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার জন্য ঘাটে তিনটি অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
হতাহতের সর্বশেষ তথ্য
রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাসুদ জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত দুই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে। তবে বাসের ভেতর থেকে আরও মরদেহ বের করার প্রক্রিয়া চলমান থাকায় এই সংখ্যা দ্রুত বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের কমান্ডার মো. বেলাল উদ্দিন জানান, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে প্রায় ৪০ জনের মতো যাত্রী এখনো পানির নিচে বাসের ভেতর আটকা পড়ে আছেন। আমাদের ডুবুরি দল তাদের উদ্ধারে আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে।”
স্বজনদের আর্তনাদ
বাসের যাত্রী আব্দুল আজিজুল সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও তার স্ত্রী ও শিশু সন্তান এখনো নিখোঁজ। নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে তিনি অঝোরে কাঁদছেন। তার মতো আরও অনেক স্বজন প্রিয়জনের লাশের অপেক্ষায় নদীর দিকে চেয়ে আছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করেছেন, উদ্ধারকারী জাহাজ ও ডুবুরি দল পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় অনেক প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
বর্তমান পরিস্থিতি
বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে ৩নং ফেরিঘাটে পন্টুন থেকে বাসটি নদীতে পড়ে যায়। ৫৬ জন যাত্রীর মধ্যে মাত্র ৭ জন সাঁতরে উঠতে পেরেছেন। দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার চেষ্টার পর এখন বাসের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে উদ্ধার কাজ চালানো হচ্ছে। অন্ধকার ও তীব্র স্রোতের কারণে উদ্ধারকর্মীদের চরম বেগ পেতে হচ্ছে।













