রাজধানীর সদরঘাট এলাকায় দুটি লঞ্চের সংঘর্ষের ঘটনায় নিখোঁজ এক ব্যক্তিকে উদ্ধারে নেমে প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখে পড়েছে ফায়ার সার্ভিস।
পানির তীব্র স্রোত এবং পন্টুনে লঞ্চের অত্যাধিক চাপের কারণে উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
নিখোঁজ ও হতাহতের বিবরণ
গত বুধবার বিকেলে সদরঘাটে সংঘটিত এই দুর্ঘটনায় মিরাজ নামে এক ব্যক্তি নিখোঁজ হন। তিনি তার ছেলে ও পুত্রবধূকে নিয়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় ওঠার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের ঘটনায় মিরাজের ছেলে সোহেল নিহত হয়েছেন এবং তার পুত্রবধূ গুরুতর আহত অবস্থায় বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
কেন স্থগিত হলো উদ্ধারকাজ?
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দুপুরে ফায়ার সার্ভিস সদরঘাট স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার জহিরুল ইসলাম জানান, আজ সকাল ৬টা থেকে উদ্ধারকাজ শুরুর চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু পানির প্রবাহ অপ্রত্যাশিতভাবে প্রবল এবং লঞ্চগুলো ঘনভাবে জড়ো হয়ে থাকায় কাজ করা যাচ্ছিল না।
তিনি আরও বলেন, “ডুবুরিরা পানির নিচে যাওয়ার চেষ্টা করলেও তীব্র স্রোতে বারবার লঞ্চের নিচে চলে যাচ্ছিল। এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া যাত্রীদের চাপের কারণেও উদ্ধারকাজে বিঘ্ন ঘটছে। তাই সিনিয়র অফিসারদের পরামর্শে অভিযান আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।” তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া মাত্রই পুনরায় উদ্ধারকাজ শুরু হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপট
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পন্টুন থেকে বের হওয়ার সময় ‘আসা-যাওয়া ৫’ নামক একটি লঞ্চকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয় ‘জাকির সম্রাট ৩’ লঞ্চটি। এই সংঘর্ষের ফলে পাশে থাকা নৌকাটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং যাত্রীরা পানিতে পড়ে যান।
আইনি পদক্ষেপ
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ মো. ফয়সাল আহমেদ জানান, নিহত সোহেলের মরদেহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিখোঁজ মিরাজকে খুঁজে বের করতে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি পুলিশি টহল অব্যাহত রয়েছে।







