বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬ | রাত ২:০০
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে তলিয়ে যাওয়া ‘সৌহার্দ্য পরিবহনের’ বাসটি থেকে এখন পর্যন্ত ১৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (২৫ মার্চ) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ ডুবন্ত বাসটি পানির ওপরে তুলে আনার পর বাসের ভেতর থেকেই ১৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে স্থানীয়রা আরও দুজনের মরদেহ উদ্ধার করেছিল।
আরো পড়তে- দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর পদ্মায় ডুবে যাওয়া বাস উদ্ধার
নিহত ও নিখোঁজদের পরিচয়
উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। তারা মূলত কুষ্টিয়ার কুমারখালী ও খোকসা থেকে বাসে উঠেছিলেন।
- একই পরিবারের চারজন: খোকসা উপজেলার শোমসপুর গ্রামের বাসিন্দা ও ঢাকার ‘তাকওয়া ফুড প্রোডাক্ট’-এর মালিক গিয়াস উদ্দিন রিপন (৪৫), তার স্ত্রী লিটা খাতুন (৩৭) এবং সন্তান আবুল কাসেম সাফি (১৭)। তবে তাদের ১৩ বছর বয়সী কন্যা আয়েশা বিন্তে গিয়াস এখনো নিখোঁজ।
- খোকসার যাত্রী: দেলোয়ার (৩০) ও তার স্ত্রী উদ্ধার হলেও তাদের ৩ বছরের শিশু সন্তান ইসরাফিল এখনো নিখোঁজ রয়েছে।
- শৈলকুপার পরিবার: ঝিনাইদহের শৈলকুপার বাসিন্দা বেসরকারি চাকুরিজীবী মো. নুরুজ্জামান (৩২) ও তার ৪ বছরের সন্তান নওয়ারা আক্তার প্রাণে বেঁচে ফিরলেও তার স্ত্রী আয়েশা আক্তার (৩০) এবং ৭ মাসের শিশু সন্তান আরশান এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
উদ্ধার অভিযান ও বর্তমান পরিস্থিতি
রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা জানিয়েছেন, উদ্ধারকৃত মরদেহগুলো গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হচ্ছে। বাসে ৪৫ জনের মতো যাত্রী ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে, যার মধ্যে অনেকেই এখনো নিখোঁজ।
ঘটনাস্থলে বর্তমানে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অবস্থান করছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
শোকাতুর ঘাট এলাকা
ঈদের আনন্দ শেষে কর্মস্থলে ফেরার পথে এমন মৃত্যু কেউ মেনে নিতে পারছেন না। নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে ঘাট এলাকায় শত শত মানুষের আহাজারিতে এক শোকার্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে। রাত গভীর হলেও লাইট জ্বালিয়ে নদীর বিশাল এলাকা জুড়ে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।










